সোমবার, ০১ জুন ২০২০ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ইভেন্ট

পর্যটন সাংবাদিকতায় ফেলোশিপের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের প্রস্তাব আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
২৭ মার্চ ২০২০

প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পর্যটন বিষয়ে রিপোর্টিংয়ের জন্য ফেলোশিপ প্রদানের লক্ষ্যে আগ্রহী সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরারস এসোসিয়েশন, মেরিন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক ও সেভ আওয়ার সি এর সহযোগিতা প্রথমবারের মতো পর্যটন সাংবাদিকতায় ফেলোশিপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ তারিখ  আগামী ১৫ মে ২০২০ বিকাল ৫টা।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পর্যটন একটি ক্রমবর্ধমান ও দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন খাত হিসেবে আজ সবার কাছে সমাদৃত। বিশ্বব্যাপী এক-দশমাংশ কর্মসৃজন ও জিডিপিতে অবদান রেখে এই খাত পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম স্থানে নিজেকে তুলে এনেছে। অথচ বাংলাদেশে এই পর্যটন খাতটি নানারূপ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে স্বরূপে বিকশিত হতে পারছেনা। দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অন্তরায় গুলি একে আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছে, যা কেউ বলছেও না। বললেও তা কেউ আমলে নিচ্ছে না। তাই সময় এসেছে এসবের প্রথাগত অনুসন্ধানের পর কার্যকর উপায়ে প্রকাশের। গবেষণা ও গণমাধ্যম কর্মীরা এই জাতীয় কাজের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীরা প্রথাগত সাংবাদিকতার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটনকে ধারণ করতে সময় লাগছে। এই অবস্থায় অনুসন্ধান ও গবেষণাধর্মী সাংবাদিকতার রূপ নির্ধারণ ও অনুশীলনের প্রকৃতি উদ্ভাবনের জন্য পর্যটন সাংবাদিকতার কোন বিকল্প নাই। বাংলাদেশে আগামী দিনের পর্যটনকে টেকসই পর্যটনে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যে কটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা দরকার, পর্যটন সাংবাদিকতা এদের মধ্যে অন্যতম। পর্যটন সাংবাদিকরাই পারেন এ সকল সম্পদগুলো চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে সে সব সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য সকলকে সচেতন করতে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পর্যটনের খাত ও পরিচালনার ক্ষেত্রসমূহকে নিয়ে পর্যটন সাংবাদিকতায় ফেলোশিপ প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হয়।

ফেলোশিপের উদ্দেশ্য

ক) পর্যটন দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদসমুহকে চিহ্নিত করা এবং তার ব্যবহার, অতিব্যবহার ও ক্ষয়জনিত বিষয়াদি চিহ্নিত করা।

খ) সকল পর্যটন সম্পদ সংরক্ষণের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণের গোচরাভূত করা।

গ) দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ঐতিহ্যেসমুহের স্বরূপ উদঘাটন করা এবং সে সব এর পুর্বরূপে ফেরত নেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করা।

ঘ) অনুসন্ধানমুলক পর্যটন সাংবাদিকতার উদ্ভাবন করা।

ঙ) সাংবাদিকদেরকে জাতীয় পর্যায়ে নতুন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা।

ফেলোশিপ প্রাপ্তির যোগ্যতা

ক) যে কোন গণমাধ্যমে অন্তত ৩ (তিন) বছর কাজের করার অভিজ্ঞতাসহ বর্তমানে জাতীয় গণমাধ্যম সংবাদ কর্মী হিসেবে কর্মরত থাকতে হবে।

খ) নুন্যতম স্নাতকসহ প্রার্থীর বয়স নুন্যতম ২৭ বা তদূর্ধ্ব হতে হবে ( তবে জেলা শহরের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে শিথিল হতে পারে)

গ) পর্যটন সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার তৈরির দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে।

ঘ) পর্যটনে ব্রেক নিউজ, স্টোরি নির্মান ও স্টোরির গভীরে প্রবেশে আগ্রহ থাকতে হবে।

ঙ) বাজার, অর্থনীতি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজে পর্যটনের প্রভাব চিহ্নিতকরণে প্রত্যায়ী হতে হবে।

ফেলোশিপ রেজিস্ট্রেশনের নিয়োমাবলী

ক) অংশগ্রহণকারী সবাইকে নিম্নে উল্লিখিত গুগল ফরম সঠিক ভাবে পুরন করতে হবে।

খ) কোন রকম ভুল তথ্য প্রদান করিলে রেজিষ্ট্রেশন বাতিল বলিয়া গন্য হবে।

গুগল লিংক https://forms.gle/T4wArupwC1wpp9586

ফেলোশিপ বাছাই প্রক্রিয়া

২ (দুই) দিনব্যাপী একটি কর্মশালার মাধ্যমে কাঙ্খিত সংখ্যক ফেলোদের বাছাই করা হবে।

ফেলোশিপ প্রদানকারী সংস্থা

Bangladesh Tourism Foundation নিয়োমিত ভাবে এই ফেলোশীপ প্রদান করবে। সহযোগিতায় থাকবে Bangladesh Tourism Explorers Association – BTEA, Save Our Sea ও Marine Journalist Network সহ বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

ফেলোশিপ এর তত্বাবধান

বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন এর সভাপতি জনাব মোখলেসুর রহমান সকল ফেলোদের তত্বাবধাকের (Supervisor) দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে অন্য কোন গবেষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে সহ তত্বাবধাক (Co-Supervisor) নিয়োগ করা হবে।

ফেলোশিপ এর মেয়াদকাল

মেয়াদ কাল ১ (এক) বছর। জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দ।

ফেলোশিপ এর সংখ্যা

৫ (পাঁচ) থেকে ১০ (দশ) জন।

ফেলোদের কাজের প্রকৃতি

ক) প্রত্যেক ফেলোর জন্য খাদ্য পর্যটন, উৎসব পর্যটন, চিকিৎসা পর্যটন, ধর্মীয় পর্যটন, পর্যটন অর্থনীতি, পর্যটন ও সরকার, পরিবেশ পর্যটন, সৈকত ও সমুদ্র পর্যটন, জীবনধারা পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন এই ১০ (দশ) টি বিষয়ের মধ্যে থেকে যে কোন একটি নির্ধারণ করা হবে।

খ) সংবাদ সংগ্রহ ও প্রস্তুতের জন্য Routers Handbook of Journalism মোতাবেক ৩ (তিন) দিনব্যাপী একটি কর্মশালা পরিচালনা করা হবে।

গ) প্রত্যেক ফেলো প্রতি ২ (দুই) সপ্তাহে ১ (এক) টি সংবাদ প্রস্তুত ও প্রচার করবেন।

ঘ) প্রতিমাসের প্রথম রবিবার প্রত্যেক ফেলোকে পর্যালোচনা সভা কাম কর্মশালায় যোগ দিতে হবে। উক্ত সভায় তিনি পূর্ববর্তী মাসের কাজসমূহ জমা দিবেন এবং পরবর্তী মাসের কাজের ব্রিফিং নিবেন।

ঙ) বছর শেষে প্রত্যেক ফেলোর ছবি, বায়োডাটা এবং তাদের প্রকাশিত সংবাদগুলিকে নিয়ে ১ (এক) টি পুস্তক প্রকাশিত হবে, যা আগামী দিনে কাজের রেকর্ড হিসেবে থাকবে এবং গবেষকদের রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

ফেলোশিপ এর স্বীকৃতি

ক) জুন ২০২০ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেলোশীপ ঘোষণা করা হবে।

খ) জুলাই ২০২১ একটি আড়ম্বরপূর্ণ কনভেনশন অনুষ্ঠান এর মাধ্যমে প্রত্যেক ফেলোকে ১ (এক) লক্ষ টাকা ও ১ (এক) টি পদকসহ ফেলোশীপ সনদ প্রদান করা হবে।

ফেলোশিপ প্রাপ্তদের নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা

ক) ফেলোদের দিয়ে প্রত্যেক গণমাধ্যমে পর্যটন বিট চালু করা।

খ) জাতীয় স্কীল কাউন্সিলের মাধ্যমে ফেলোদের জাতীয় মান নির্ধারণ করা।

গ) পর্যটন শিক্ষা, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও পর্যটন সাংবাদিকতায় ফেলোদেরকে সংযুক্ত রাখার চেষ্টা অব্যহত করা হবে।

ঘ) পর্যটন সাংবাািকতা নিয়ে একটি আইপি টিভি চ্যানেল চালু করা হবে।

আবেদনের সময় সীমা

আগ্রহী সাংবাদিকরা আগামী ১৫ মে ২০২০ বিকাল ৫ টা পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন এর করতে পারবেন। তাই দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করুন।

যোগাযোগ

শহিদুল ইসলাম সাগর

চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরারস এসোসিয়েশন -বিটিইএ

ফোকাল পয়েন্টঃ

বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন

ফোনঃ 01796807049; 01670184940।

যশোরে মাস্ক ও খাবার দিলেন ওয়ালটন প্লাজার কর্মীরা
কালিনারি ফোলোশিপ: সেরা ৩ রন্ধনশিল্পী পাবেন এক লক্ষ টাকা

আপনার মতামত লিখুন