বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১ | ৬ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
অর্থনীতি

তুরস্কের সোডেক্স আন্তর্জাতিক মেলায় আকর্ষণের কেন্দ্রে ওয়ালটন কম্প্রেসর

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ অক্টোবর ২০২১

ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি খাতে একের পর এক মাইলফলক সৃষ্টি করছে ওয়ালটন। করোনার মধ্যেও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ওয়ালটন পণ্যের রপ্তানি ১.৪ মিলিয়ন ডলার থেকে ১৪ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। বৈশ্বিক রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এবার তুরস্কের বৃহত্তম শহর ও প্রধান সমুদ্রবন্দর ইস্তাম্বুলের আইএসকে সোডেক্স আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিয়েছে ওয়ালটন। মেলায় বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ওয়ালটন কম্প্রেসর।

উল্লেখ্য, ইস্তাম্বুলের আইএসকে সোডেক্স বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ইউরোশিয়া অঞ্চলে ভেন্টিলেশন, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী এটি। ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। মেলায় আন্তর্জাতিক এইচভিএসি অ্যান্ড আর, ইনস্যুলেশন, পাম্প, ভাল্ব, ফিটিং, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, ফায়ার প্রিভেনশন, পুল অ্যান্ড সোলার এনার্জি সিস্টেম ইত্যাদি পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।

তুরস্কে ওয়ালটন কম্প্রেসরের পরিবেশক কার্গি সগুতমা ইসিতমা স্যান. ভি টিক. লিমিটেড এসটিআই.। আইএসকে সোডেক্স ফেয়ারে যৌথভাবে অংশ নিয়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠান। মেলার কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ালটন ও কার্গির দৃষ্টিনন্দন স্টল। ইতোমধ্যেই এ মেলা থেকে বৈশ্বিক ক্রেতাদের বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের মধ্যে তুরস্কে ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ কম্প্রেসর রপ্তানির আশা করছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।

সোডেক্স ফেয়ারে বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশে তৈরি বিশ্বের ‘মোস্ট সাইলেন্ট অ্যান্ড ডিউরেবল’ ওয়ালটন কম্প্রেসর উপস্থাপন করছেন প্রতিষ্ঠানটির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ওয়ালটন প্রতিনিধিদলে আছেন এর পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক তানভীর রহমান ও মাহফুজুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইউনিটের (আইবিইউ) প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড কিম, কম্প্রেসর প্রোডাক্টের ডেপুটি চিফ বিজনেস অফিসার নাসির উদ্দিন মন্ডল প্রমুখ। কার্গি’র পক্ষ থেকে মেলায় সার্বিক নির্দেশনায় আছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমিন কার্গি।

জানা গেছে, ইউরোশিয়া অঞ্চলের বিজনেস হাব হিসেবে খ্যাত তুরস্ক। দেশটিতে আছে বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে অন্যতম কার্গি সগুতমা ইসিতমা স্যান. ভি টিক. লিমিটেড এসটিআই.। তুরস্ক ও ইউরোপের অসংখ্য ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর পরিমাণ প্রযুক্তিপণ্য ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে তারা। সেজন্য কম্প্রেসর সরবরাহের পাশাপাশি কার্গির সঙ্গে কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। এ উপলক্ষে গত বছরের ৭ জুলাই ওয়ালটন ও কার্গি’র মধ্যে ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বিজনেসের চুক্তি হয়। এর ফলে তুরস্কসহ সমগ্র ইউরোপেই ওয়ালটন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাময় এক বিশাল দ্বার উন্মোচন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর তুরস্কের অন্যতম বৃহৎ মেলা আইসএসকে সোডেক্স ফেয়ারে অংশ নিয়েছে ওয়ালটন ও কার্গি।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ ওয়ালটন কম্প্রেসর নিয়েছে কার্গি। ২০২২ সালে অন্তত ৩ লাখ কম্প্রেসর রপ্তানির জন্য মেলা চলাকালে কার্গির সঙ্গে নতুন আরেকটি চুক্তি করবে ওয়ালটন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এশিয়ার ৮ম ও বিশ্বের ১৫তম কম্প্রেসর উৎপাদনকারী দেশ। দেশের একমাত্র কম্প্রেসর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪ মিলিয়ন। ২০২৫ সালের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা ১০ মিলিয়নে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে ওয়ালটনের। জার্মানি, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম্প্রেসর ও এর যন্ত্রাংশ রপ্তানি করছে ওয়ালটন।

এদিকে, ‘গো গ্লোবাল’ স্লোগানে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের শীর্ষ ব্র্যান্ড ওয়ালটন নির্ধারণ করেছে ‘ভিশন ২০৩০’। অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য ওয়ালটনের। এজন্য ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি খাতের কার্যক্রম ব্যাপক জোরদার করেছে বাংলাদেশি এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

পরিবেশ সুরক্ষায় সবার চেয়ে এগিয়ে ওয়ালটন
২০২২ সালে তুরস্কে ৩ লাখ কম্প্রেসর রপ্তানিতে ওয়ালটন-কার্গি চুক্তি

আপনার মতামত লিখুন