রোববার, ২২ মে ২০২২ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সাক্ষাৎকার

পর্যটকদের মূল্যায়ন না করলে কক্সবাজার হবে ভুতুড়ে শহর

ডেস্ক রিপোর্ট
০৩ জানুয়ারি ২০২২

কয়েক দিন ধরে কক্সবাজারে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের কাছ থেকে রুমের অতিরিক্ত ভাড়া ও খাবারের দাম নেওয়া, নারী পর্যটককে ‘সংঘবদ্ধ ধষর্ণের’ ঘটনা লোকের মুখে মুখে।  

নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কক্সবাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। তাদের অনেকেই নিরাপত্তা শঙ্কায় ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ছাড়ছেন।

পর্যটকদের মূল্যায়ন করতে না পারলে কক্সবাজার ভুতুড়ে শহরে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার নাগরিক  আন্দোলনের সদস্য সচিব ও রির্পোটার্স ইউনিটি কক্সবাজারের সভাপতি এইচএম নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প নিয়ে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। তার অন্যতম কারণ পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করা। আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পর্যটন স্পষ্ট তৈরি করা হচ্ছে কিন্তু পর্যটক টানতে পারছে না। এমনকি কক্সবাজারমুখী হওয়ায় এসব পর্যটন ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পনির্ভর দেশগুলোও চাইছে পর্যটককে কক্সবাজার বিমুখ করতে।

তারই অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর কক্সবাজারকে বয়কট করার ডাক দিয়েছেন। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নুরু সেটি পারে কি না প্রশ্ন করেন তিনি। 

তিনি বলেন, নিশ্চয় ভাইরাল নুরু কারও এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্সবাজারকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন। নুরুর প্রতি অনুরোধ, আপনার উচিত কক্সবাজারে কথিত রাজনৈতিক দল গঠনের চিন্তা থেকে সরে আসা।

কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে নতুন নতুন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে সম্ভাবনার নতুন দ্বার সৃষ্টি হবে। এ সময় তিনি আবাসিক হোটেলগুলোতে শতভাগ এনআইডি কার্ড নিশ্চিত করে রুম ভাড়া দেওয়ার কথা বলেন। এনআইডির পাশাপাশি ছবিও তুলে রাখার কথাও বলেন।

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে আরেকটি অন্যতম বাধা হচ্ছে সিন্ডিকেট। যাদের কবলে পড়ে মূলত কক্সবাজারের দুর্নাম হচ্ছে। বিমান, হোটেল ও সেন্টমার্টিনে জাহাজ ভাড়া নিয়ে একাধিক সিন্ডিকেট পর্যটন মৌসুমে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের চিহ্নিত করা গেলে এবং এদের হাত থেকে কক্সবাজারকে রক্ষা করতে পারলে কক্সবাজারবাসীর সম্মান রক্ষা হবে।

পর্যটন শহরকে অপরাধমুক্ত করতে হলে হোটেল-মোটেল জোনসহ সমুদ্র সৈকতের সমস্ত ঝুপড়ি উচ্ছেদ করতে হবে। এসব ঝুপড়ি থেকে নিয়ন্ত্রণ হয় মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইকারী চক্র। এখনই পরিকল্পিতভাবে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে অনিয়মগুলো নিয়মে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর পর্যটন নগরীর মাঝে ১০-১৫ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন শিল্পের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এরাও পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে এক দিন। তবে পর্যটন শিল্প রক্ষা করতে হলে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পর্যটকবান্ধব হয়ে ওঠা জরুরি। কারণ পর্যটকরা কক্সবাজার বিমুখ হলে ধ্বংস হয়ে যাবে এ শিল্প, পরিণত হবে ভুতুড়ে শহরে।

সুরমায় নান্দনিক ট্যুরিস্ট নৌকার যাত্রা শুরু
পর্যটনমেলা মেলা শুরু ৩ ফেব্রুয়ারি

আপনার মতামত লিখুন