সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটন শিল্পে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ডিসেম্বর ২০২২

অর্থনৈতিক সঙ্কট, দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধির সাথে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটন শিল্পে নয়া উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন ব্যবসার এই উপযুক্ত সময়ে এমন অস্থিরতায় পর্যটক কমছে। ফলে করোনা সঙ্কট কাটিয়ে উঠলেও বিরাজমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নতুন করে সঙ্কটে পড়বে সম্ভাবনার এ খাত।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা চলাকালে তারা ভয়াবহ সঙ্কটে পড়েছিলেন। সেই সময়ে যারা টিকে গেছেন তাদের অনেকের এখনো লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর মধ্যে শুরু হয় ডলারের দামের অস্থিরতা। এতে আবার ধাক্কা খেতে থাকে এ খাত। তার পরও কোনো মতে তারা চলছেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটক না পেলেও টিকে থাকার মতো অবস্থায় আছেন। কিন্তু নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতায় তারা আবার সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন।

বিরাজমান পরিস্থিতিতে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াব) বলছে, ডলারের দাম বৃদ্ধির পর থেকে এমনিতেই পর্যটক আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এর মধ্যে এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। তাদের মতে, কয়েক দিন থেকে দেশের ব্যস্ততম পর্যটন স্পটগুলো প্রায় পর্যটকশূন্য রয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতে কখন কী হয় এমন আশঙ্কা থেকে মানুষ কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন না। ফলে ব্যবসার ভরা মৌসুমেও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটক খরা চলছে। এতে লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে করোনার পর নতুন করে সঙ্কটে পড়বে পর্যটন শিল্প।

সুন্দরবন ট্যুর অপারেটর সুমন জানান, প্রতি বছর এই সময়ে সুন্দরবন ভ্রমণে তাদের প্যাকেজ পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু এ মাসেই সঙ্কট যাচ্ছে। ট্যুরিস্ট নেই বললেই চলে। তার মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মানুষ নিজ এলাকা ছাড়ছেন না। কখন কী হয় এই আশঙ্কায় ভ্রমণকারীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। ফলে এমন সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

একই অভাস দিলেন কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির একজন নেতা। তিনি বলেন, সাধারণত ছুটির দিনে কক্সবাজার পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু এই প্রথম করোনার পর গতকাল শুক্রবার স্থানীয় লোকজনের ছাড়া বাইরের পর্যটক ছিলেন না এমনটিই বলা যায়।

অন্য দিকে সিলেট হোটেল মালিক সমিতির সাবেক এক নেতা জানান, তাদের অবস্থাও একই। ছুটির দিনে যেখানে হোটেলে রুম দেয়া কষ্টকর হয় সেখানে এই সপ্তাহে পর্যটক ছিলেন না। তিনি বলেন, এ সঙ্কট সাময়িক। এ সপ্তাহের মধ্যেই তা কেটে যাবে বলে তাদের ধারণা।

যদিও বিশ্ব পর্যটন সংস্থা বলছে, দেশে ২০২৪ সালে মোট কর্মসংস্থানের ১ দশমিক ৯ শতাংশ হবে পর্যটন শিল্পের অবদান। আর ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৫১ দেশের পর্যটকরা বাংলাদেশে ভ্রমণ করবেন; যা মোট জিডিপিতে ১০ শতাংশ অবদান রাখবে। তবে তার জন্য পরিকল্পনা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল। কিন্তু টোয়াব বলছে, দেশে পর্যটন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ১১০ কোটি। এর মধ্যে পর্যটকের প্রায় ৭৫ শতাংশ ভ্রমণ করেন এশিয়ার দেশগুলোয়। তাতে করে বাংলাদেশে এর আগমনের সংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে তার সম্পূর্ণ সফলতা আসছে না।

পর্যটন সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন
আলোর মুখ দেখেনি ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট

আপনার মতামত লিখুন