শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঘুরে আসি

মহাকাশে প্রথম পর্যটকের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

অনলাইন ডেস্ক
০৭ মে ২০২১

মার্কিন কোটিপতি ডেনিস টিটো ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল রাশিয়ার সয়ুজ রকেটে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন। তিনিই বিশ্বের প্রথম মহাকাশ পর্যটক। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ৬০ বছর। তাঁর তরুণ বয়সে দেখা স্বপ্ন পূরণ হয় এ মহাকাশ অভিযাত্রার মধ্য দিয়ে। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি পকেট থেকে দুই কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছিলেন।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানায়, দুই দশক পর তাঁর সেই মহাকাশ অভিযাত্রার বিষয়টি স্মরণ করে টিটো আনন্দে আপ্লুত হয়ে ওঠেন। তাঁকে বহনকারী রকেটটি যখন প্রথম কক্ষপথে প্রবেশ করে, সেই মুহূর্ত বর্ণনা করার সময় যে অনুভূতি হয়েছিল, তা তিনি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ট্রাভেলকে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কক্ষপথে পৌঁছানোর পর পেনসিল বাতাসে ভাসতে শুরু করলে আমি মহাকাশের গাঢ় অন্ধকার ও দূরে পৃথিবীর বক্রতা চোখে পড়ল। আমি উচ্ছ্বসিত ছিলাম। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা। জীবনের লক্ষ্য অর্জনের এ ঘটনাকে কোনো কিছুই হারাতে পারবে না বলেই আমি জানি।’

টিটোর মহাকাশ ভ্রমণের পর বিশ্বের আরও কয়েক ধনী তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন। স্পেস এক্স, ব্লু অরিজিন ও ভার্জিন গ্যালাক্টিকের মতো প্রতিষ্ঠান মহাকাশ পর্যটন নিয়ে কাজ করছে। টিটো এখনো মহাকাশ পর্যটনের বিষয়টির খোঁজখবর রাখেন। তাঁর আশা অনেকেই একদিন মহাকাশ ভ্রমণের ওই রোমাঞ্চ নিতে আগ্রহী হবে। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের জন্য শুভকামনা জানাই। আমি আশাবাদী, তাঁরা একদিন চমৎকার এ অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।’

ডেনিস টিটো যখন মহাকাশ ভ্রমণে যান, তখন তিনি অর্থসংক্রান্ত খাতে কাজ করতেন। তবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন নভোচারী হিসেবে। তিনি বলেন, ১৯৬১ সালেই তিনি মহাকাশ ভ্রমণের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। ওই সময়ে সোভিয়েত নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন বিশ্বের প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেছিলেন। টিটো বলেন, ‘একজন তরুণ হিসেবে আমি এতে মুগ্ধ হয়েছিলাম।’ পরে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করলেও তিনি লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মহাকাশ ভ্রমণের পক্ষে ছিল না। কিন্তু ১৯৯১ সালের পর টিটো সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভাড়ায় মহাকাশ ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। নব্বইয়ের দশক থেকেই রুশরা মহাকাশ কর্মসূচিতে অর্থায়ন সমস্যায় ভুগছিল। তিনি তাদের কাছে মহাকাশ পর্যটনের প্রস্তাব নিয়ে যান। ২০০১ সালের ২৮ এপ্রিল সয়ুজ মহাকাশযান কাজাখস্তানের বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে যাত্রা শুরু করে। দুই রুশ নভোচারীর সঙ্গে এতে ছিলেন টিটো। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল আট দিনের উচ্ছ্বাস। আমি জানালা দিয়ে দেখেছিলাম। পৃথিবী, মহাকাশ স্টেশনের ভিডিও করেছি। এটা ছিল চমৎকার। আমি যা আশা করেছিলাম, তার চেয়ে ১০ গুণ ভালো। সেই আট দিন ছিল আমার সারা জীবনের সবচেয়ে সেরা অভিজ্ঞতা।’

টিটোর মহাকাশ ভ্রমণের পর আরও সাতজন ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে মহাকাশে গেছেন। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে মহাকাশে কোনো পর্যটক যাননি। মহাকাশ ভ্রমণ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান স্পেস অ্যাডভেঞ্চার্সের প্রতিনিধি স্ট্যাসি টিয়ার্নে বলেছেন, পরিস্থিতি আবার বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি নভোযান ও পর্যটন সেবাদাতা থাকবে। প্রতিযোগিতা বাড়লে প্রতিযোগিতামূলক দামেই মহাকাশ ভ্রমণ করা যাবে।

কানাডিয়ানরা গ্রীষ্মের মধ্যেই ভ্রমণ করতে পারবেন
নোয়াখালীতে করোনা মোকাবেলায় করনীয় শীর্ষক ওয়েবিনার

আপনার মতামত লিখুন