শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঘুরে আসি

বিনোদনপ্রেমীদের আকৃষ্ট করছে বিলাইছড়ির স্বর্গপুর ঝর্ণা

অনলাইন ডেস্ক
২৭ আগস্ট ২০২২

বিনোদনপ্রেমীদের আকৃষ্ট করছে মনোরম বিলাইছড়ির স্বর্গপুর ঝর্ণা। প্রতিদিন শত শত পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসু প্রিয়জনকে নিয়ে কাপ্তাই ও রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথে প্রাকৃতিক অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে বিলাইছড়ি ছুটে যাচ্ছেন। পর্যটকদের অনায়াসে ঘুরে বেড়ানোর লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বিলাইছড়ি উপজেলার ১ নং সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ও ৪ নং ওয়ার্ডের হাজাছড়া ও দীঘলছড়ি ঢেবারমাথার মাঝামাঝি বিলাইছড়ি পাহাড় ও দীঘলছড়ি পাহাড়ের পাদদেশে ৭টি ঝর্ণা অবস্থিত। ঝর্ণা হতে বছরজুড়ে ঝিরিঝিরি শব্দে পানি প্রবাহিত হয়ে জলরাশি একীভূত হয়ে মিশে গেছে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশিতে। এখানে দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে যে স্বচ্ছ জলস্রোতে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পাথরে আবৃত পথে রয়েছে বিশটির অধিক প্রাকৃতিক সুইমিং পুল। যেই সুইমিং পুলে ভিজে আপনি দেহ মনকে পবিত্রতায় ভরিয়ে তুলতে পারেন।

স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, বিলাইছড়ি স্বর্গপুর ঝর্ণার কাছে মনোরম স্বর্গপুর বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। এ জায়গায় একসময় এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ধ্যান করেছেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি শ্রদ্ধার জায়গা। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, বিলাইছড়ি উপজেলায় অনেকগুলো ছোট বড় ঝর্ণা রয়েছে, যা দেশের অন্য কোনো উপজেলায় নেই। এ ছাড়া এ উপজেলায় রয়েছে পাহাড় হ্রদে আর সবুজের অনন্য সমন্বয়। স্বর্গের মতো সুন্দর এসব জায়গার উন্নয়ন সাধনও এখানে কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠা করে আমরা এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

স্থানীয় গ্রাম প্রধান বরুণ কার্বারী বলেন, ঝর্ণাগুলো খুব সুন্দর। এখানে লোকজন আসছে, খুব ভালো লাগছে। বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান বলেন, ঝর্ণাগুলো পর্যটকদের আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এ এলাকায় আসার রাস্তা খুবই নাজুক। সরকার সেখানে রাস্তাঘাট নির্মাণ করে দেয়, তাহলে এ এলাকার পর্যটন শিল্পে বিকশিত হবে।

ঝর্ণা দেখতে আসা গাজীপুরের হানিফ মিয়া, কুষ্টিয়ার সুমন জানান, প্রতিটি ঝর্ণা দিয়ে অবিরাম ধারায় পানি পড়ছে, মনটা প্রশান্তিতে ভরে গেল।

রাঙ্গামাটি সদর কিংবা কাপ্তাই জেটিঘাট হতে ইঞ্জিনচালিত বোটে ঘণ্টা দেড়েক পর বিলাইছড়ি উপজেলায় পৌঁছাতে হয়। এরপর বিলাইছড়ি সদর হতে ধুপ্যাচর, দীঘলছড়ি পার হয়ে ২০ মিনিট ইঞ্জিনচালিত বোটে পাড়ি দিয়ে ঢেবার মাথা যাওয়ার পর আরো ৩০ মিনিট পায়ে হেঁটে এ ঝর্ণায় পৌঁছানো যায়।

একদিনের শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে ঘুরে দেখবেন যেসব স্পট
বড় স্ক্রিনের টিভিতে বাসায় বসেই জমজমাট বিনোদন

আপনার মতামত লিখুন