সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
মতামত

ট্রেন ভ্রমণেও ঝুঁকি?

নাজমুল হোসেন
২৫ জুন ২০১৯

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। তাই ঝুঁকি এড়াতে অনেকে রেলে ভ্রমণ করে থাকেন। দেখা যাচ্ছে, রেল ভ্রমণও ঝুঁকিহীন নয়। গত ২৩ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বরমচাল সেতু ভেঙে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। একটি বগি খালে পড়ে যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে সিলেট থেকে আসা পুলিশ, স্থানীয় জনতা, র‌্যাব, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করেছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে সহায়তায় একটি রিলিফ ট্রেনও কাজ করেছে। ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে তিন নারী ও এক শিশু। আহত শতাধিক যাত্রীর মধ্য থেকে গুরুতর অনেককে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল, কুলাউড়া সদর হাসপাতাল এবং সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মধ্যরাতে দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীদের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার, আর্তনাদ ও কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। জানা যায়, ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পরও ট্রেনচালক দুর্ঘটনার বিষয়টি টের না পাওয়ায় কমপক্ষে পৌনে এক কিলোমিটার পর্যন্ত চালিয়ে যান।

পরে যাত্রীদের চিৎকার ও হৈ-হুল্লোড়ে ট্রেন থামানো হয়। আপাতত সারা দেশের সঙ্গে সিলেট রুটে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এখনও আমাদের দেশে ট্রেন ব্যবস্থাপনা দুর্বল ও নাজুক। লোকবল ও সম্পদের অপ্রতুলতাই যেন রেল বিভাগের নিয়তি। তবে দেশে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিসীমা কম থাকায় অন্যান্য দেশের দুর্ঘটনার চেয়ে আমাদের দুর্ঘটনায় অপমৃত্যুর সংখ্যা কম।

সিলেট রুটের কুলাউড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় সময়ই এসব এলাকায় ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ২৩ জুনের দুর্ঘটনা আমাদের রেল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

বেশিরভাগ ট্রেনের ইঞ্জিন ও কোচগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি, রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো না করা, বিভিন্ন লাইনে ব্যালাস্ট হিসেবে পর্যাপ্ত পাথর ও স্লিপার না থাকা, ব্রিটিশ আমলে তৈরি রেল সেতুগুলোর ঠিকমতো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করা ইত্যাদি কারণে দেশে রেল চলাচল ঝুঁকিতে রয়েছে।

তাই বিষয়টি নিয়ে এখনই রেল মন্ত্রণালয়সহ সচেতন মহলকে ভাবতে হবে। মানুষের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ চাহিদায় রেল যাতায়াত দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের এ চাহিদা পূরণে এখনই রেলকে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় গড়ে তুলতে হবে।

অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুরে তিতাস সেতুতে সংস্কার কাজ চলায় সিলেটের সঙ্গে দেশের সব জেলার বাস যোগাযোগ স্বাভাবিক না থাকায় বেশ কয়েকদিন যাবত সিলেটমুখী যাত্রীরা রেলের ওপরই ভরসা করছেন বেশি।

ফলস্বরূপ একেকটি বগিতে যতজন যাত্রী ওঠার কথা, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও যাত্রী উঠছেন তার কয়েকগুণ বেশি। বিষয়টি নিয়ে ট্রেন কর্তৃপক্ষ কতটা সচেতন তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ট্রেনের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রী উঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। এ ক্ষেত্রে অন্যের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে ঝুঁকিমুক্তি সম্ভব নয়। ট্রেন ভ্রমণে আমাদের তথা সাধারণ যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে।

মাত্রাতিরিক্ত যাত্রীপূর্ণ বগিগুলোতে কোনোরকমে একটু ঠাঁই পেলেই যেন আমরা বেঁচে যাই! এমন মানসিকতা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। এটাও মনে রাখতে হবে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

লেখক: প্রকৌশলী ও লেখক
naymulhussen@yahoo.com

আরব আমিরাতে পর্যটকদের জন্য সিম ফ্রি
যে পর্যটন কেন্দ্রে নিষিদ্ধ হচ্ছে প্লাস্টিক!

আপনার মতামত লিখুন