মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২ | ২১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
অর্থনীতি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পুরোনো পর্যটন পাচ্ছে নতুনত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুন ২০২২

আগামী, ২৫ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বাঙালি জাতির স্বপ্নের স্থাপনা পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু চালু হলে আশপাশের জেলাগুলো আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অপরাপর জেলাসমূহ কতভাবে কত দিক থেকে প্রভাবিত হবে তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

সেখানকার কৃষির উন্নয়ন হবে, শিল্পের উন্নয়ন হবে, শিক্ষার উন্নয়ন হবে, হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। সেই সাথে পর্যটনের পালে লাগবে নতুন হাওয়া। পুরোনো পর্যটন এলাকাগুলোই পাবে নতুনত্ব। পর্যটন শিল্প পাবে আরো গুরুত্ব। পদ্মা সেতুকে ঘিরে ইতোমধ্যেই পর্যটনের ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এই বিষয়ে আরো আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য পছন্দের স্পটে পরিণত হতে পারে স্বয়ং পদ্মা সেতু; উন্মত্ত পদ্মার উপর নয়নাভিরাম সেতুটি দেখতে ইতোমধ্যে উৎসাহী জনতা। দেশ বিদেশের নজরও এখন পদ্মা সেতুকে ঘিরে। পদ্মা সেতুর ওপারে ২১ জেলা বিশেষ করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমের সব পর্যটন স্পট জনপ্রিয় হবে আগের চেয়ে।

স্বপ্নের এই সেতু চালুর আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন আসছেন অসংখ্য মানুষ। সেতুর আশপাশে নৌ-যানে চড়ে কাছ থেকে দেখছেন স্বপ্নের সেতু। স্মৃতি হিসেবে সেতুর সাথে ছবি তুলতে দেখা গেছে অনেককে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সেই ছবি পোস্ট। ইতোমধ্যে অনেকেই করে ফেলেছেন ট্যুর প্ল্যান।

শরীয়তপুর প্রান্তের জাজিরায় ইতোমধ্যেই গড়ে উঠছে রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিষ্ঠান। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আপাতত ট্রলার ভাড়া দিয়ে পর্যটন-সুবিধা উপভোগ করছেন স্থানীয়রা। শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা থেকে শিবচরের মাদবর চর পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সাড়ে ১০ কিলোমিটার নদী শাসন এলাকাও এখন দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র। আগামীতে এখানে গড়ে উঠবে পরিকল্পিত পর্যটন এলাকা।

পুরোনো দর্শনীয় স্থানগুলোও পদ্মা সেতুকে ঘিরে আরও জমজমাট হবে। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় যেমন আছে রামঠাকুরের আশ্রম। এছাড়া ভেদরগঞ্জে মহিসার দ্বিগম্বরের দীঘি, হাটুরিয়া জমিদারবাড়ি, মানসিংহের দুর্গসহ নানা দর্শনীয় স্থাপনা এখানে রয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এসব স্থানে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে। এছাড়া যোগাযোগ সহজ হওয়ার ফলে সুন্দরবন, বাগেরহাট ও কুয়াকাটায় আগের চেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম হবে।

শরীয়তপুরের জাজিরার বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, জাজিরা একটা অবহেলিত এলাকা ছিল। সেতু চালু হলে ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ হবে। তখন আর এই এলাকা অবহেলিত থাকবে না। এখানে পর্যটন কেন্দ্র, ইপিজেডসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা হবে; পার্ক, রেস্টুরেন্ট, হোটেল-মোটেল হবে।ইতোমধ্যে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অনেকে এখানে পর্যটন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আশা করি কিছুদিনের মধ্যে জাজিরার চেহারা পাল্টে যাবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বাংলাদেশে যে তিনটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ (বিশ্ব ঐতিহ্য) রয়েছে তার দুটিই দক্ষিণাঞ্চলে- ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবন। এই জায়গাগুলো মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল। সাগরকন্যা কুয়াকাটা, যেখান থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখা যায়, ঢাকা থেকে সেখানে যেতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক পর্যটক যেত না। এবার এখানেও পর্যটক বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় আরো অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোতে পর্যটকরা যেতে আগ্রহ দেখাবে এবং পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন পর্যটন স্পট তৈরি হবে। পর্যটনের নানা স্থান যা এখনো গুরুত্ব পায়নি পদ্মা সেতুর কল্যাণে পর্যটকদের নজরে আসবে সেসব স্থান। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত ওই অঞ্চলের মানুষেরা উপকৃত হবে। সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

দারুণ ফিচারের নতুন স্মার্টফোন আনলো ওয়ালটন
পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতাধীনে পর্যটন সুবিধাদি স্থাপনে প্রস্তাব

আপনার মতামত লিখুন