শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

সংকট কাটছে পর্যটন খাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ আগস্ট ২০২১

আবারও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়। করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গুর কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার পর ছুটি কাটাতে ভ্রমণে যাওয়া শুরু করেছে মানুষ। চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি হলে কয়েক মাসের জন্য ঘরবন্দি হয়ে পড়ে মানুষ। সম্প্রতি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় সমুদ্র সৈকত, পাহাড় ও অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছে মানুষ।

গত ১৯ আগস্ট সরকার যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও ৫০ শতাংশ ধারণক্ষমতা ব্যবহার করে সব ধরনের পর্যটন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র খোলার অনুমতি দেয়।

দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার পুনরায় চালু হওয়ার পর প্রায় ৪৭০টি হোটেল ও মোটেল এবং দুই হাজারের মতো খাবারের দোকানে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের চেয়ারম্যান এম এন করিম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তাদের রিসোর্টের ২০০টি রুমের মধ্যে ১০০টি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এখন বেশ ভালো ব্যবসা হচ্ছে।' করিম বলেন, 'স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি কক্ষ বুকিং থাকলেও শুক্র ও শনিবারে ৫০টিরও বেশি কক্ষ বুকিং হয়।'

গ্রেস কক্স স্মার্ট হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ মাহমুদ জানান, তারা ৭২টি রুমের মধ্যে অতিথিদের জন্য ৩৬টি উন্মুক্ত রেখেছেন এবং সবগুলোই এ সপ্তাহে বুকড ছিল। তবে, শুক্র ও শনিবার ছাড়া বুকিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

তিনি জানান, ৫০ শতাংশ ধারণ ক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালালেও, খরচ হচ্ছে শতভাগ। যেহেতু বাসগুলো পূর্ণ ধারণক্ষমতা নিয়ে চলতে পারছে, তাই আমি মনে করি আমাদের রুমগুলো আলাদা হওয়ায় সবগুলো একসঙ্গে চালু করার অনুমতি দেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা পুরোপুরি চালানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

সরকারি প্রণোদনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আমরা ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছিল, প্রণোদনার টাকা কীভাবে বিতরণ করা হবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা পাননি।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলমান ব্যবসায়িক মন্দার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল, মোটেল ও থিম পার্কের জন্য গত মাসে এক হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রণোদনার অর্থ থেকে আবাসিক হোটেল ও থিম পার্কের মালিকরা চার শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। এতে ব্যাংকগুলো অবশ্য আট শতাংশ সুদ পাবেন। কারণ চার শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে দেবে সরকার।

হোটেল দ্য কক্স টুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে সঠিকভাবে সহযোগিতা করছে না।

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একজন শীর্ষ নেতা। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর আমাদের সঙ্গে যেরকম আচরণ করার কথা, তারা তা করছে না। আমরা এখনও তাদের কাছ কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। এখনও পর্যটন মৌসুম শুরু হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি গণ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা যায়, তাহলে আমি মনে করি আসছে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মৌসুমে আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারব। হোটেল দ্য কক্স টুডের ২৭২টি কক্ষ থাকলেও অর্ধেক নিয়ে চালু করতে হয়েছে।

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডের মারমেইড বিচ রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার রানা কর্মকার বলেন, পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে আমরা পর্যটকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। তিনি বলেন, ছুটির দিনগুলোতে বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মহামারির আগে আমাদের ধারণক্ষমতার ৭০ শতাংশ পর্যটকে পূর্ণ থাকত। তবে, এখন সেটা ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি জানান, কর্মীদের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রণোদনার আবেদন করেছিলেন। মহামারির মধ্যে তাদের কর্মীদের চাকরি থেকে ছাঁটাই বা বেতন কাটা হয়নি।

পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারের অনেক হোটেল এখন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে মিলে ছাড় দিচ্ছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১১ হাজার ২৯০ টাকার একটি প্যাকেজে আন্তর্জাতিক মানের হোটেলে দুই রাত, তিন দিনের থাকার ব্যবস্থা, ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা এয়ার টিকিট, বিমানবন্দর-হোটেল-বিমানবন্দর ভ্রমণ, সকালের নাস্তাসহ আরও বেশকিছু সুবিধা দিচ্ছে।

বেসরকারি এয়ারলাইন্স নভোএয়ারের গ্রাহকরা মাসিক কিস্তিতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে তিন দিন, দুই রাতের প্যাকেজ সুবিধা পাচ্ছেন। যেটি প্রতি মাসে এক হাজার ৮৯৯ টাকা থেকে শুরু করে ছয় মাসের কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

প্যাকেজের আওতায় আছে বিমান ভাড়া, হোটেলে থাকার ব্যবস্থা, বিমানবন্দর থেকে হোটেল থেকে বিমানবন্দর ভ্রমণ এবং দুই জনের জন্য সকালের নাস্তা।

বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, গত বছর থেকে মহামারির কারণে এই খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গত বছরের আগস্ট থেকে লকডাউন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর হোটেল ও রিসোর্টগুলোর অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল।

পর্যটন খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারের হোটেলগুলো পুরোদমে চালু ছিল। অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে সে সময় অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের বুকিং নিতে পারেনি।

হোটেল দ্য কক্স টুডের আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আশা করছি সামনের মাসগুলোতে দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরা সেভাবেই একটা ভালো শীত মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

চিড়িয়াখানায় ঢুকেই উধাও স্বাস্থ্যবিধি
পর্যটন করপোরেশনে চাকরির সুযোগ

আপনার মতামত লিখুন