শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ইভেন্ট

চিড়িয়াখানায় ঢুকেই উধাও স্বাস্থ্যবিধি

সাজিদা ইসলাম পারুল
২৮ আগস্ট ২০২১
করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার খুলেছে জাতীয় চিড়িয়াখানা। এদিন বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে হাতির ফুটবল খেলা দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থী- মামুনুর রশিদ

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার খুলেছে জাতীয় চিড়িয়াখানা। এদিন বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে হাতির ফুটবল খেলা দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থী- মামুনুর রশিদ

দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। মাঠেও খেলতে দেওয়া হয়নি। ঘরের ব্যালকনিতে ছোট্ট বোন নাফিসার সঙ্গে শুধু আকাশ দেখেছে ১২ বছরের সজীব। অনলাইনে একটার পর একটা ক্লাস করতে গিয়ে অনেকটাই হাঁপিয়ে উঠেছে সে। নাফিসারও একই দশা! প্রকৃতির সান্নিধ্য সে পায় না বহুদিন। তাই প্রায় পাঁচ মাস পর জাতীয় চিড়িয়াখানা খুলে দেওয়ার খবরে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর ১০ নম্বরের উত্তর শিবিলের এই ছোট দুই বাসিন্দার চোখে-মুখে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানার গেটে তাদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। উচ্ছ্বসিত এই বালক-বালিকা বিকেল পর্যন্ত এখানে থাকার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। খেলাধুলা করার জন্য সঙ্গে করে এনেছে ফুটবল। তবে চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে টিকিট কিনে থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় ভিড়ের কারণে ঢুকতে দেরি হচ্ছিল তাদের।

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে গত ২ এপ্রিল থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানা বন্ধ ঘোষণা করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর আগেও করোনা সংক্রমণ রোধে গত বছরের ২০ মার্চ প্রথমবারের মতো জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ওই বছরের ১ নভেম্বর থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল।

শুক্রবার ও শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর উন্মুক্ত পরিবেশে ঘুরতে আসার সুযোগ পেয়ে খুশি শিশুসহ সব বয়সী মানুষ। খুব আগ্রহ নিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেন তারা। প্রবেশমুখে টিকিট কেনার পর থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করানো হয় তাদের। এরপর স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করতে হয় দর্শনার্থীদের। এ ছাড়া প্রতি ১৫ মিনিট পরপর মাইকে দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চিড়িয়াখানায় চলাফেরা করার আহ্বান ও সতর্কবাণী প্রচার করা হচ্ছে। তবে প্রবেশের সময় মাস্ক পরা থাকলেও ভেতরে অনেকেই তা খুলে ঘুরছেন। কারণ জানতে চাইলে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার অজুহাত দেখান তারা।

দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্দি আরেক শিশু আওসাফ। করোনার দিনগুলোয় বাবা-মায়ের কাছে প্রায়ই ঢাকা চিড়িয়াখানায় থাকা জীবজন্তুর গল্প শুনেছে সে। চিড়িয়াখানা দেখার প্রত্যাশা গতকাল বাস্তব হয় তার। চিড়িয়াখানার প্রধান ফটক দেখতেই আওসাফের চোখে-মুখে আনন্দ ফুটে ওঠে। ভেতরে ঢুকে ডান দিকে গিয়ে প্রথমেই হরিণ দেখে তার উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়।

আওসাফের বাবা শিহাব উদ্দিন জানান, অনেক দিন ঘরবন্দি অবস্থায় আছে ছেলেটা। দিনভর মোবাইল ফোনে কার্টুন ও জীবজন্তুর ভিডিও দেখে সময় পার করেছে। করোনার কারণে খুব একটা বের হওয়াও সম্ভব হয়নি। তাই চিড়িয়াখানা খোলার খবর পেয়েই এখানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি।

দুর্জয় ও অবন্তিকাকে দেখতে ভিড় : গত ২৬ মে চিড়িয়াখানায় টগর ও বেলী বাঘ-দম্পতির খাঁচায় জন্ম নিয়েছে দুটি বাঘশাবক। দুর্জয় নাম রাখা হয়েছে পুরুষ শাবকের। অবন্তিকা রাখা হয়েছে মেয়ে শাবকের। নতুন দুই শাবককে দেখার জন্য বাঘের খাঁচার সামনে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও দর্শকদের চোখের আড়ালে রাখা হয়েছে তাদের।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি জোরদারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, করোনাকালে নির্বিঘ্ন পরিবেশ পেয়ে পশুপাখির প্রজনন বেড়েছে। দুই দফার দীর্ঘ বন্ধে বিভিন্ন প্রজাতির ৪৫০টি পশুপাখির জন্ম হয়েছে। এ ছাড়া দুই শাবকসহ এখন বাঘ রয়েছে ১১টি। পাশাপাশি অন্য পশুপাখিও পর্যাপ্ত রয়েছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. আব্দুল লতিফ জানান, গত এক বছর নিরিবিলি পরিবেশ আর প্রাণীদের সঠিক যত্নে প্রজনন হার বেড়েছে। ধারণক্ষমতার বেশি হয়ে যাওয়ায় গত আট মাসে ৫১টি হরিণ বিক্রি করা হয়েছে। ময়ূরও প্রতি জোড়া ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির অনুমোদন পাওয়া গেছে। তিনি জানান, হরিণ ও ময়ূর বিক্রির অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। শিম্পাঞ্জি, রাইন, চশমামুখো বানরসহ নতুন প্রাণী আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বন্ধের দিন প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে। এখানে প্রবেশ করতে হলে দর্শনার্থীদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। সতর্কবাণী প্রচারের জন্য রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে ব্যবস্থা। এ ছাড়া ১৩টি জায়গায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য
সংকট কাটছে পর্যটন খাতের

আপনার মতামত লিখুন