শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঘুরে আসি

পাথরের রাজ্যে ফের প্রকৃতিপ্রেমীর ঢল

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

চয়ন চৌধুরী, সিলেট
২৮ আগস্ট ২০২১

ছোট-বড় পাথর ডিঙিয়ে চলছে পাহাড়ি নদী। সবুজে ঘেরা পাহাড়-টিলার সৌন্দর্য আরও মোহনীয় করে তুলছে ঝরনার জলরাশি। করোনাকালে বিধিনিষেধের বেড়াজালে পাথরের রাজ্যে নেমেছিল নীরবতা। বর্ষায় স্বচ্ছ পানির প্রবাহ প্রকৃতিকে আন্দোলিত করলেও তাতে মুগ্ধ হওয়ার কেউ ছিল না। দীর্ঘদিন পর বিধিনিষেধ ওঠার পর সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। অবশ্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে তাদের অনীহা করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কাও সৃষ্টি করছে।

শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে জাফলং, বিছানাকান্দি, সাদাপাথরে প্রকৃতি অবগাহনে আসেন হাজারো মানুষ। সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটে পর্যটন সংশ্নিষ্ট ব্যবসায়ীসহ সবার মধ্যেও ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। করোনাকলের ক্ষতি পুষিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। আগত পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পর্যটন কেন্দ্রের দোকান সেজে উঠেছে বাহারি পণ্যের সমাহারে। এতদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শত শত ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

সিলেটের প্রায় সবক'টি পর্যটন কেন্দ্রে যৌবনের ছোঁয়া লাগে বর্ষাকালে। তবে দু'বছর ধরে বিধিনিষেধের জন্য বর্ষার সৌন্দর্য দেখার সুযোগ হয়নি পর্যটকদের। অবশেষে গত ১৯ আগস্ট পর্যটন কেন্দ্রের দ্বার উন্মোচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনা শুরু হয়। তবে নানা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গতকাল ছুটির দিনে তা পূর্ণতা লাভ করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, জাফলং এলাকায় পর্যটকবাহী নৌকার মাঝিদের মধ্যেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। পর্যটনের দ্বার উন্মোচন হলেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের দিকনির্দেশনা ছিল। তবে অনেক দিন পর প্রকৃতির কাছে আসার সুযোগ পেয়ে মানুষের মধ্যে কোনো বাঁধ মানার আগ্রহ দেখা যায়নি। গতকাল সরেজমিন জাফলংয়ে আসা পর্যটকদের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন শত শত মানুষ।

কুমিল্লা সদর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে 'প্রকৃতিকন্যা' জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন সুমন আহমদ। তিনি বলেন, লকডাউনের জন্য অনেক দিন ধরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বাচ্চারাও হাঁপিয়ে উঠেছে। সবাই কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। অবশেষে সুযোগ পেয়েই সবাইকে নিয়ে তাই সিলেটে ঘুরতে এসেছেন। নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বোনদের পরিবারের লোকজনকেও নিয়ে এসেছেন সুমন।

ঢাকা থেকে চার বন্ধুসহ এসেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিন বছর আগে পরিবারের সঙ্গে এসেছিলাম। পরে করোনা ও লকডাউনের জন্য আসা সম্ভব হয়নি। এবার লকডাউন উঠতেই তারা চলে এসেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী নূরনবী মিয়া বলেন, লকডাউনের জন্য পর্যটক আসা বন্ধ ছিল। মাঝেমধ্যে স্থানীয় কিছু লোকজন ঘুরতে আসতেন। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসার প্রধান ক্রেতা পর্যটক। করোনার জন্য দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসাও বন্ধ ছিল। ফলে কয়েক লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।

জাফলং, বিছানাকান্দি সাদাপাথর এলাকায় আগত পর্যটকদের ছবি তুলে দেওয়ার পেশায় জড়িত রয়েছেন সহস্রাধিক যুবক। এতদিন পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ থাকায় তারাও বেকার হয়ে পড়েছিলেন। এখন আবার তাদের জীবিকার চাকাও ঘুরছে বলে জানিয়েছেন জাফলং ফটোগ্রাফার সমিতির সভাপতি সোহেল আহমদ। তিনি জানান, তাদের সংগঠনের সদস্যসহ চার শতাধিক ফটোগ্রাফার জাফলং পর্যটক কেন্দ্রে আগতদের ছবি তুলে দেন। এতদিন তাদের সিংহভাগ মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।

জাফলংয়ের সংগ্রাম ক্যাম্প পর্যটন কেন্দ্রে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সানি আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন সব বন্ধ থাকায় হোটেল ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে আবার পর্যটকরা আসতে শুরু করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে বিপুল অঙ্কের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেক দিন লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বিধিনিষেধের জন্য সিলেট নগরীর হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরাও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি গুনেছেন। পাশাপাশি হোটেল ব্যবসায় জড়িত হাজারো শ্রমিক কার্যত বেকার হয়ে পড়েন। নগরীর জিন্দাবাজারের হোটেলে গোল্ডেন সিটির মহাব্যবস্থাপক মিষ্টু দত্ত বলেন, সবকিছু বন্ধ থাকায় হোটেলের স্টাফদের বেতন-ভাতা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। এখন সবকিছু খুলেছে, পর্যটকরাও আসছেন। ভালো লাগছে।

ওয়ালকার্টের এক্সক্লুসিভ পার্টনার হলো ওয়ালটন হাই-টেক
চিড়িয়াখানায় ঢুকেই উধাও স্বাস্থ্যবিধি

আপনার মতামত লিখুন