শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সীমানার ওপারে

টিকাবৈষম্যে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশের পর্যটন খাত

ডেস্ক রিপোর্ট
২৮ জুলাই ২০২১

করোনা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈশ্বিক পর্যটন খাত। অনেক ভ্রমণ কোম্পানি ইতিমধ্যে বসে গেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যটন খাতের এ দুরবস্থার কারণে এ বছর বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার। কারণ হিসেবে তারা বলছে, টিকা বিতরণে অসমতা।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ টিকা পেলেও পর্যটন খাতে এই মহামারির প্রভাব এক বছর আগের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি হবে।

টিকা বিতরণে অসমতার ক্ষতি পর্যটনের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে মনে করছে আঙ্কটাড। তাদের হিসাব, এ কারণে শুধু পর্যটন খাতেরই ক্ষতি হবে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার সমপরিমাণ, যদিও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির যে ক্ষতি হবে, তার ৬০ শতাংশই হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। সংখ্যায় নিয়ে এলে তা দাঁড়াবে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার।

২০২০ ও ২০২১ সালে বৈশ্বিক পর্যটন খাতের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার। তাতে দরিদ্র দেশগুলোর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার।

পর্যটন খাতের সঙ্গে আরও যেসব খাত যুক্ত, যেমন খাদ্য সরবরাহ, পানীয়, আবাসিক হোটেল, যোগাযোগ—এসব খাতের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণও এই হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রণোদনার প্রভাব এ খাতে কতটা পড়তে পারে, তার হিসাব করা হয়নি।

প্রতিবেদনে আঙ্কটাড বলেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর পর্যটন খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সালে এই দেশগুলোতে আগত পর্যটকদের সংখ্যা কমেছে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ।

বিষয়টি হলো উন্নত দেশগুলো কোভিড টিকাদানে অনেক এগিয়ে গেলেও উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনো পিছিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, টিকাপ্রাপ্ত মানুষ এখন যেখানে ভিড় নেই, সেখানে মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াতে পারেন। জুলাই মাসে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা করছে। যুক্তরাজ্যের অবস্থাও অনেকটা সে রকম, যদিও ডেলটা ভেরিয়েন্ট নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে সেখানে আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার তথ্যানুসারে, এখন পর্যন্ত বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে। উন্নয়নশীল ও গরিব দেশগুলো টিকাপ্রাপ্তিতে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ইতিমধ্যে গরিব দেশগুলোকে টিকা দেওয়ার জন্য উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন।

আঙ্কটাডের ভবিষ্যদ্বাণী, যেসব দেশে টিকাদানের হার কম, ২০২১ সালে সেসব দেশে পর্যটকদের আগমন ৭৫ শতাংশ কমতে পারে। আর যেসব দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন, সেসব দেশে কমতে পারে ৩৭ শতাংশ।

তুরস্ক, ইকুয়েডর, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ, সেন্ট লুসিয়া—এসব দেশ সবচেয়ে ভুক্তভোগী হবে। এশিয়ার বড় অংশ ও ওসেনিয়া অঞ্চলও বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ ও ক্যারিবীয় অঞ্চল অতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুসারে, পর্যটন খাতের এ দুরবস্থার কারণে অদক্ষ শ্রমিকদের বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ইউএন ওয়ার্ল্ড টুরিজম অর্গানাইজেশনের তথ্যানুসারে, ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ সরাসরি চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন, যাঁদের সিংহভাগ তরুণ, নারী ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক।

ট্যুর অপারেটর ও গাইড খসড়া আইন নিয়ে বিতর্ক
ঝালকাঠির পেয়ারা ব্যবসায় করোনার ‘থাবা’, বন্ধ বাগানকেন্দ্রিক পর্যটন

আপনার মতামত লিখুন