শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সীমানার ওপারে

মারিতে তুষারঝড়ের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

ডেস্ক রিপোর্ট
১০ জানুয়ারি ২০২২

পাকিস্তানের মারিতে ভয়াবহ তুষারঝড়ে আটকা পড়ে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে আটকে ছিলেন সামিনা নামের এক পর্যটক। চোখের সামনে দেখছিলেন অনেক মৃত্যু। সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তিনি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন।

হাজার হাজার পর্যটকের মতো সামিনাও মারি শহরে শীতকালে পাহাড়ে তুষারঝড় দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গত শুক্রবার প্রবল তুষারঝড়ের কবলে পড়তে হয়। তুষারঝড়ে রাস্তার ওপর গাছ পড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামিনা বলেন, তিনি স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে বাড়ি ছেড়ে মারির উদ্দেশে যাত্রা করেন। হঠাৎ করেই দেখেন তিনি তুষারঝড়ে আটকে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে গাড়িগুলোর বাম্পার ও ছাদে বরফের স্তূপ জমে গেছে।

সামিনা বলেন, আমি আমার চোখের সামনে অনেক মৃত্যু দেখেছি। মনে হচ্ছিল গাড়ির চারপাশ দিয়ে তুষারের চূড়া তৈরি হয়েছে। আমি কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সামিনা আরও বলেন, তারা প্রার্থনা করছিলেন তুষারঝড়ে যেন মারা না যান। সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের সহায়তা করেন।

নাথিয়াগালির কর্মকর্তা তারিক উল্লাহ বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ফুট পর্যন্ত তুষার জমে যায়। তিনি এএফপিকে বলেন, ঘটনাটি ছিল খুবই অপ্রত্যাশিত। প্রবল তুষারঝড়ে গাছ উপড়ে পড়েছে, চারদিকে তুষার জমেছে। মানুষ ছিল আতঙ্কিত। পরদিন সকালে সামিনাকে উদ্ধার করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে একটি পর্যটন শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে তাকে রাখা হয়। জরুরি সংস্থাগুলো বলছে, তুষারঝড়ে যারা নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জন শিশু।

কর্তৃপক্ষ বলছে, আটজন ঠান্ডায় জমে মারা গেছেন। যানবাহনগুলোতে উষ্ণ রাখতে যে ধোঁয়া ব্যবহার করা হয় তাতে অনেকের শ্বাসকষ্টও হয়। এই শ্বাসকষ্টও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সামিনা ও তার পরিবারের ১৩ সদস্য গাড়ি ছেড়ে এক মাইল দূরের অতিথি ভবনে যান। সেখানে তারা আশ্রয় নেন। মারিতে থাকা ফারহাদ জাভেদ বলেন, শহরে পাঁচ হাজারের মতো গাড়ি রাখার জায়গা ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার এক লাখ পর্যটককে মারিতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে তাঁরা যানজটে আটকে পড়েন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার মারিতে সরু রাস্তায় যানবাহনগুলো আটকে পড়ে। ইসলামাবাদের পর্যটক দুয়া কাশিফ আলী এএফপিকে বলেন, মারিতে এ রকম তুষারঝড় নিয়ে সমাজ, সরকার, গুগল কিংবা কোনো সংবাদ সংস্থা কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। মারির রাস্তায় গাড়িগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা যানজট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র: বিবিসি।

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ‘নরকের দুয়ার’
‘সংরক্ষিত এলাকা’ নারীর অপমান

আপনার মতামত লিখুন