শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সীমানার ওপারে

ভ্রমণ নির্দেশিকায় ব্রিটেনের মুসলিম ঐতিহ্য

অনলাইন ডেস্ক
০৬ অক্টোবর ২০২২

সম্প্রতি ভ্রমণ গাইড বই বিষয়ক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লোনলি প্ল্যানেট যুক্তরাজ্যের চেপে রাখা মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে একটি ফিচার প্রকাশ করে। গত মাসে প্রকাশিত ‘এক্সপেরিয়েন্স গ্রেট ব্রিটেন’-এর মাধ্যমে পর্যটকদের কাছে ব্রিটেনের ১২ শ বছরের প্রাচীন মুসলিম ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

‘লেগেসিস অফ এম্পায়ার’, ‘ব্রিস্টলস ব্ল্যাক হিস্টরি’, ‘অ্যান আদার লন্ডন’ ও ‘হিডেন মুসলিম ব্রিটেন’ শিরোনামে দেশটির প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাপা পড়া সংস্কৃতির গল্প জানতে পারবে পাঠকরা।  

আদিবাসী মুসলিম সংস্কৃতির অন্বেষণ করে ‘মিনারাটস ইন দ্য মাউন্টেনস: এ জার্নি ইনটু মুসলিম ইউরোপ’ নামে অধ্যায় নিয়ে লিখেছেন তারিক হোসাইন।

দর্শনার্থীদের কাছে বৈচিত্রপূর্ণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে ব্রিটেনের মূলধারার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র তুলে ধরতে বিভিন্ন প্রকল্পে আমার মতো অনেক লেখক এসব ক্ষেত্রে নাম মাত্র কাজ করে থাকেন। অথচ উচিত ছিল বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে লেখকদের নির্বাচন করে তাদেরকে তাদের আগ্রহের বিষয়ে লেখার স্বাধীনতা দেওয়া। ’

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম ঐতিহ্য সিরিজ বিষয়ক লেখক হোসাইন ‘হিডেন মুসলিম ব্রিটেন’ অধ্যায়ে যুক্তরাজ্যের ওকিং শহরে নির্মিত প্রথম মসজিদ, লিভারপুল ও ব্রাইটন শহরের ইতিহাস তুলে ধরেন। এসব স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের মুসলিম দর্শনীয় স্থাপনাগুলো। ব্রিটেনের প্রথম মুসলিম কবরস্থান ও  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আহত মুসলিম সৈন্যদের চিকিৎসাকেন্দ্র ব্রাইটন প্যাভিলিয়নের কথাও তুলে ধরা হয়।

তিনি আরো বলেন, স্পেনের আল-হামরা প্রাসাদ ও তুরস্কের তোপকাপি প্রাসাদের মতো বিখ্যাত মুসলিম স্থাপনা আর কোথায় দেখা যেতে পারে তা গাইড বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। মূলত অ্যাংলো ইসলাম নামে একটি প্রবন্ধের আলোকে এই ভ্রমণ নির্দেশিকা তৈরি করা হয় যেখানে অষ্টম শতাব্দিতে এই অঞ্চলে ইসলাম প্রবেশ সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেই সময়ে ওফা নামে অ্যাংলো-স্যাক্সন জনগোষ্ঠীর রাজা মুসলিমদের সঙ্গে সম্পর্কের অংশ হিসেবে আরবি লেখা সম্বলিত স্বর্ণমুদ্রা তৈরি করেছিলেন।  

সেই প্রবন্ধে আরো বলা হয়েছে, ব্রিটেনের প্রথম মুসলিম সম্প্রদায় ছিল একদল শ্বেতাঙ্গ ভিক্টোরিয়ান যারা লিভারপুলে নির্মিত প্রথম মসজিদে নামাজ পড়েছিল। মসজিদটি তৎকালীন সলিসিটর হেনরি উইলিয়াম কুইলিয়াম (আবদুল্লাহ কুইলিয়াম নামে পরিচিত) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  

গাইড বইয়ে ব্রিক্সটনের বিখ্যাত ব্ল্যাক কালচারাল আর্কাইভের মতো লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত তুর্কি, ফিলিস্তিনি, বাংলাদেশি ও কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর তথ্য তুলে ধরা হয়। এছাড়াও পর্যটকদের কাছে মুসলিম হিস্ট্রি ট্যুর ও ওপেন সিটি ওয়াকিংম ট্যুর এর মতো বিকল্প পর্যটনের তথ্য দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে লন্ডনে হারিয়ে যাওয়া চীনের বিস্মৃত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যাবে।  

সূত্র : আরব নিউজ

আমিরাতে ভ্রমণ ভিসায় যেসব পরিবর্তন
দক্ষিণ এশিয়ায় ভিভোর সবচেয়ে বড় ফ্ল্যাগশিপ স্টোর ঢাকায়

আপনার মতামত লিখুন