বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
মতামত

তারেক মোরতাজা— নেপথ্যের নায়ক

ওমর ফারুক
০৪ জুলাই ২০২০

নীল টি-শার্ট পরা লোকটিকে অনেকে না-ও চিনতে পারেন। কারণ, তিনি যে আলোচনার  আড়ালে থাকতেই বেশি ভালোবাসেন!

জি, ইনি তারেক মোহাম্মদ মোরতাজা হাসান। সুবর্ণচরের প্রখ্যাত আলেম অধ্যক্ষ রুহুল আমিন কামাল সাহেবের জ্যেষ্ঠ পুত্র। আমাদের তারেক মোরতাজা ভাই। আমাদের 'সুবর্ণ-সারথি'। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে একজন নামজাদা সাংবাদিক। সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন 'দ্য ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট'- এ। একইসাথে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান 'ইম্প্যাক্ট পি আর'- এ সিনিয়র কন্সাল্ট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সৃজনশীল লেখালিখিতে সম্পৃক্ত ছিলেন; পেয়েছেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী গোল্ড এ্যাওয়ার্ড।পেশাদার সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি চার বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিস্ট সোসাইটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

এতোসব ছাপিয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়— তিনি একজন সুবর্ণ-বান্ধব। বিশেষত ঢাকাস্থ সুবর্ণচরের শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

২০০৫ সাল। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী। অনেক চেষ্টা-তদবির করেও নিজের হলে (মাস্টারদা সূর্যসেন হল) উঠতে পারছি না। শেষে ঠাঁই হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে। না, আমি একা নই, আমার মতো এমন 'অতিথি' আরো অনেকেই আছেন। আমার বন্ধু  অর্থনীতির মোহাম্মদ জাকারিয়া, ইংরেজি বিভাগের আজগর ভাই, ঢাকা আলীয়ার আহমদ উল্যাহ ভাইসহ আমাদের অনেকেরই তখনকার ঠিকানা তারেক মোরতাজা ভাইয়ের সেই চার বেডের 'লংগরখানা'।

তারেক ভাই আমদের আশ্বস্ত করেছেন, আমরা যতোদিন খুশি এখানে অবস্থান করতে পরবো। 'নো টেনশন'। মাঝেমধ্যে অতিথি বেড়ে গেলে তারেক ভাই ফ্লোরিং করতেন। আর আমরা দিব্যি আরামে উনার বেডে নাক ডেকে ঘুমাতাম! এমন অনেক দিনই গেছে তারেক ভাইয়ের খাবার আমি আর আজগর ভাই ভাগ করে খেয়েছি! (উনার খাবার রুমে দিয়ে যেতো)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় আমাদের এলাকার কিছু ছাত্রী অংশগ্রহণ করবে। তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। তারেক ভাইকে জানালাম। তিনি তারঁ কলাবাগানের বাসাটি ছেড়ে দিলেন। বললেন, তোমার ভাবি বাসায় নেই, খাওয়া-দাওয়ার একটু অসুবিধা হতে পারে। আমি ফুড পান্ডায় অর্ডার করছি। টিনের বাক্সে বিস্কিট আছে। চলবে না?

আমাদের এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সহায়তার উদ্দেশ্যে কোচিং প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল অনেক আগে। আমি নিজেও সেখানে ক্লাস নিয়েছি। বেশ কিছু শিক্ষার্থী সেখান থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অর্থাভাবে এই প্রোগ্রাম মাঝে কিছুদিন বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে 'ব্রিজ'- এর ব্যানারে এটা আবার চালু হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অনুদান যারা দিয়েছেন, তারেক ভাই তাদের অন্যতম। 

২০১৭ সালের বইমেলায় আমার প্রথম বই 'কেউ দেখে না একলা মানুষ' প্রকাশিত হয়। তারেক ভাই ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বইমেলায় আসলেন। উনাকে কেন্দ্র করে আমরা অনেকেই সেদিন একত্রিত হয়েছি। তিনি সবাইকে যার যার পছন্দমত বই উপহার দিয়েছেন। সেদিন অনেকক্ষণ ক্যাম্পাসে আড্ডা দিয়েছি। অনেক খাওয়া দাওয়া করেছি। বলাবাহুল্য, বিল দিয়েছেন সবার 'বড় ভাই' তারেক মোরতাজা ভাই।

এইতো কিছুদিন আগে এলাকার এক দরিদ্র রোগিকে ঢাকায় আনার বিষয়ে উনার সহযোগিতা চাইলাম। বলামাত্রই উনি আমাদের প্রত্যাশার দ্বিগুণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। রোগীর খোঁজখবর ও নিয়েছেন।

এই পরোপকারী, নিভৃতচারী এবং নিরহঙ্কার মানুষটির জন্মদিন আজ। জন্মদিনের শুভেচ্ছা, প্রিয় তারেক ভাই। আপনার জীবন প্রেমময় হোক, আনন্দময় হোক— দয়াময় আল্লাহর কাছে এইটুকু চাই।

লেখক : বেসরকারি চাকুরিজীবী

এখন এরা মুক্ত বিহঙ্গ
ক্যাবল কারে মালয়েশিয়ার গেন্টিং হাইল্যান্ডসের সৌন্দর্য্য

আপনার মতামত লিখুন