মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
গাঁও গেরাম

মেয়াদ বাড়ে, কাজ শেষ হয় না

মো. ইমরান হোসাইন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
১০ ডিসেম্বর ২০২২
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর পারকি সৈকতে পর্যটন কমপ্লেক্সের স্থাপনা নির্মাণকাজ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর পারকি সৈকতে পর্যটন কমপ্লেক্সের স্থাপনা নির্মাণকাজ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর পারকি সৈকতকে অত্যাধুনিক পর্যটন স্থান হিসেবে গড়তে ২০১৮ সালে প্রকল্প হাতে নেয় পর্যটন করপোরেশন। সেই বছর ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমিতে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ করার মেয়াদ ছিল দুই বছর। কিন্তু সেই কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। উল্টো ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়। এখনো ৪০ ভাগের বেশি কাজ বাকি রয়ে গেছে।

এদিকে ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী এবং সাগরের লবণাক্ত বালু ও পানি ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সরকারি স্থাপনা নির্মাণে এমন অনিয়ম দেখে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ দেখা গেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে নিম্নমানের সামগ্রী, সাগরের লবণাক্ত বালু বা লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যটন মন্ত্রণালয় পারকি সৈকতকে আধুনিক সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের নাম ‘পারকি বিচে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন’। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় পর্যটন করপোরেশনকে।

এই প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমিতে ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের পর শুরু হয় পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ। এই কাজ বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল দুই বছর। তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ২০ শতাংশ কাজও শেষ করতে না পারায় মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয় ৭১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়াজ ট্রেডার্স, দেশ লিংক লিমিটেড ও রাজ করপোরেশন যৌথভাবে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে।

প্রকল্পের আওতায় মোট ১৭টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। ১৪টি আধুনিক কটেজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৪টি ডাবল ডুপ্লেক্স কটেজ এবং ১০টি একক কটেজ। চার তলাবিশিষ্ট একটি মাল্টিপারপাস ভবন। নিচের মেঝেতে থাকবে পর্যটন করপোরেশনের কার্যালয়, দ্বিতীয় তলায় থাকবে দুটি দোকান, একটি রেস্তোরাঁ, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় থাকবে দুটি বার, একটি ২৫০ আসনের কনভেনশন হল।

এ ছাড়া তিন তলাবিশিষ্ট এটি সেবা ব্লক, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের থাকার বিশেষ ব্যবস্থাসহ পর্যটকদের জন্য ব্যাচেলর সেবা কক্ষ ৩৫টি, কমপ্লেক্সের কর্মীদের জন্য ৪৪টি কক্ষ থাকবে। একটি শৌচাগার ব্লক, যেখানে নারী-পুরুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। এ ছাড়া একটি লেক, একটি ঝুলন্ত সেতু, দুটি পিকনিক এবং একটি রান্নার ছাউনি থাকবে। একটি খেলার মাঠ, যার মধ্যে ভলিবল, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা থাকবে এবং পার্কিংয়ের সুবিধাও রাখা হবে। প্রতিটি ভবনের সামনে সাজানো বাগান থাকবে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে পারকি সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, এ প্রকল্পের ১৪টি আধুনিক কটেজের মধ্যে ১০টি তৈরি করা হলেও চারটির কাজ এখনো শুরু হয়নি। চার তলাবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবনের কাজও বাকি। ব্যাচেলর সেবা কক্ষ, কমপ্লেক্সের সেবা কক্ষ, শৌচাগার ব্লক, লেক, ঝুলন্ত সেতু, পিকনিক ও রান্নার ছাউনি, খেলার মাঠের কাজও শুরু হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী সুজন সিংহ বলেন, ‘আমরা তিন মাস আগে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ পেয়েছি। কিছুদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’

প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যটন করপোরেশনের প্রকৌশলী অসীম শীল বলেন, ‘করোনায় নির্মাণকাজে একটু ধীরগতি ছিল। এ জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই।’

বৈশ্বিক সংকটে থমকে দাঁড়িয়েছে পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার
বিশ্বকাপ ফুটবল বাণিজ্য ও পর্যটন বৃদ্ধির সুযোগ: আমিরাতের অর্থমন্ত্রী

আপনার মতামত লিখুন