মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সীমানার ওপারে

বৈশ্বিক সংকটে থমকে দাঁড়িয়েছে পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট
১০ ডিসেম্বর ২০২২
গত জুনে এথেন্সের সেন্ট্রাল স্কয়ারে স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটকের ভিড় ছবি: দ্য ন্যাশনাল

গত জুনে এথেন্সের সেন্ট্রাল স্কয়ারে স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটকের ভিড় ছবি: দ্য ন্যাশনাল

কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে বৈশ্বিক পর্যটন খাত কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। কিন্তু পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার ঠিক প্রত্যাশা অনুযায়ী নয় বরং খানিকটা ধীরগতি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। কারণ ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট, উচ্চমূল্যস্ফীতি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, সব মিলিয়ে পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার মন্থর হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

মূলত ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, উচ্চমূল্যস্ফীতি ও পরিবারগুলোর দুর্বল ক্রয়ক্ষমতার মতো কারণগুলো খাতটিকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ওইসিডির ট্যুরিজম ট্রেন্ডস অ্যান্ড পলিসি প্রতিবেদন অনুসারে, অনেক অর্থনীতি এ বছর অবদমিত চাহিদা, পারিবারিক সঞ্চয় এবং ভ্রমণ ভাউচারের মাধ্যমে পর্যটন খাতের শক্তিশালী পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে ২০২৪ বা ২০২৫ সালে কিংবা তার পরের বছরেও বিশ্বব্যাপী পর্যটন পুনরুদ্ধারের আশা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে দ্য ন্যাশনাল নিউজ জানায়, ওইসিডির মহাসচিব ম্যাথিয়াস মনে করেন, মহামারীটি বৃহত্তর পর্যটন অর্থনীতির অন্তর্নিহিত দুর্বলতাগুলোকে প্রকাশ করে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন খাতটির পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে হুমকির সম্মুখীন করছে।

কভিড-১৯ মহামারীর আগে জিডিপিতে পর্যটন খাতের সরাসরি অবদান ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও কর্মসংস্থানে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। তাছাড়া ওইসিডির তালিকাভুক্ত দেশগুলোয় গড়ে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ পরিষেবা-সম্পর্কিত রফতানি সৃষ্টি করে খাতটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারীর তীব্রতায় বিশ্বব্যাপী পর্যটন প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারির ফলে জিডিপিতে পর্যটনের সরাসরি অবদান ওইসিডি বাজারগুলোয় ১ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমে গেছে।

ওইসিডি দেশগুলোর আন্তর্জাতিক পর্যটক প্রবাহ ২০১৯ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ কম ছিল। যদিও এটি অঞ্চলভিত্তিক কমবেশি হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ ডেনমার্ক, গ্রিস, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া ও স্পেনে পর্যটকদের আগমন ২০১৯ সালের মাত্রা ছাড়িয়েছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী দেশগুলোয় ২০২২ সালের জুলাইয়ে পর্যটক সংখ্যা প্রাক-মহামারী স্তর থেকে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ কম ছিল।

গত মাসে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক পর্যটন শিল্প প্রাক-মহামারী স্তরের ৬৫ শতাংশে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, চলতি বছর পর্যটন রাজস্ব বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার অর্জিত হতে পারে, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৬০-৭০ শতাংশ বেশি।

জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালের প্রথম নয় মাসে আনুমানিক ৭০ কোটি পর্যটক আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণ করেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে খাতটি অনিশ্চিত পরিস্থিতির পাশাপাশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওইসিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা ও পর্যটনকে আরো স্থিতিস্থাপক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের দিকে নিতে প্রয়োজন রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ।

এর জন্য সরকার কিংবা ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জ শুধু স্বল্পমেয়াদে পর্যটনকে উৎসাহিত করা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে খাতটির শক্তি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা বলে মনে করেন করম্যান। ওইসিডি তালিকাভুক্ত দেশগুলোয় পর্যটনের একটি ভালো ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর জোর দেন ওইসিডির মহাসচিব।

পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধারের বছর হবে ২০২২
মেয়াদ বাড়ে, কাজ শেষ হয় না

আপনার মতামত লিখুন