বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

বাংলাদেশে ৬২ লাখ ধূমপায়ী কমাতে পারে ভেপিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ আগস্ট ২০২০
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভেপিং ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৬২ লাখের বেশি ধূমপায়ী প্রচলিত সিগারেট ছেড়ে দিতে পারে বলে ধারণা করেছে কনজুমার চয়েস সেন্টার। ৬১ দেশের ওপর একটি গবেষণায় এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ভোক্তাদের পছন্দ নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া-ভিত্তিক সংগঠন কনজুমার চয়েস সেন্টার।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংগঠনটি বলছে, যুক্তরাজ্যের পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভেপিংকে উৎসাহিত করা হলে দেশে ২৫ শতাংশ ধূমপায়ী প্রচলিত সিগারেট ছেড়ে ভেপিংয়ে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা ২ কোটি ৪৯ লাখ। এক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভেপিং ব্যবহারে উৎসাহিত করা হলে এদের মধ্যে থেকে ৬২ লাখ ২৫ হাজার ধূমপায়ীকে সিগারেট থেকে সরিয়ে ভেপিং ব্যবহারে নিয়ে আসা সম্ভব।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ভেপিংকে উৎসাহিত করা হলে ৬০টি দেশে ১৯ কোটি ৬০ লাখের বেশি ধূমপায়ী প্রচলিত সিগারেট ছেড়ে ভেপিংয়ে আগ্রহী হবে। এতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ওই গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ধূমপায়ীর সংখ্যা কমতে পারে চীনে। ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার এই তালিকায় ৬১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশের আগে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ৬৩ লাখ ৬২ হাজার লোক প্রচলিত ধূমপান ছেড়ে দিতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৫ সালের পাবলিকে হেলথ ইংল্যান্ডের গবেষণানুযায়ী, প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় ভেপিং ৯৫ শতাংশ নিরাপদ। কারণ ভেপিং মূলত নিকোটিন নির্ভর। যা প্রচলিত সিগারেটের মতো সাত হাজার অন্যান্য রাসায়নিক থাকে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ধূমপান ছাড়ার জন্য ভেপিং ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের দোকানগুলোতেও ভেপিং বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও সর্বশেষ উপাত্তে ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বলছে, যুক্তরাজ্যে ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করা ৩৪ শতাংশ ব্যক্তি ভেপিংয়ের সহায়তা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হচ্ছে ভেপিং। ভেপিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সফলভাবে ধূমপান ছেড়ে দিচ্ছে। গেল বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে এখন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ভেপিং করছে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ তামাকের সিগারেট বা ধূমপান ছেড়ে দেয়ার জন্য ভেপিং করছে। 

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সাজ্জাদ খান মনে করেন, ভেপিং হতে পারে ধূমপান থেকে সরে আসার অন্যতম কার্যকর উপায়। সরকারেরও এই বিষয়কে ইতিবাচকভাবেই নেওয়া উচিত। ধূমপানের ঝোঁক ছাড়াতে কার্যকরি উপায় হতে পারে এটা। কারণ ভেপিং শরীরের ক্ষতিকারক রাসায়নিকের চাহিদা ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলে।

ই-সিগারেট খাত নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেট ত্যাগ করার অন্যতম উপায় হিসেবে ইউরোপজুড়েও ভেপিং জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার চিকিৎসকরা ধূমপান ত্যাগের মাধ্যম হিসাবে ভেপিংয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে আইন করে বৈধ করেছে ভেপিং। এসব দেশের মতো বাংলাদেশেও ধূমপান ছাড়ার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে ভেপিং। যার মাধ্যমে ২০৪০ সাল নাগাদ দেশকে তামাকমুক্ত করার ভিশন পূরণ সম্ভব।

স্নাতক পাসে নিয়োগ দেবে ওয়ালটন
উদয় হাকিমের উপস্থাপনায় ত্রিবেণীর ১৬তম পর্বে আজ থাকছেন কৃষ্ণ-তুলি

আপনার মতামত লিখুন