বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
দেখা থেকে লেখা

সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মেলবন্ধন গল ফেস সমুদ্র সৈকত

শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরে ইমরুল কাওসার ইমন
০৫ আগস্ট ২০১৯
গল ফেস সমুদ্র সৈকতে লেখক ইমরুল কাওসার ইমন

গল ফেস সমুদ্র সৈকতে লেখক ইমরুল কাওসার ইমন

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো শহরের একেবারেই প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গল ফেস সমুদ্র সৈকত। দিন ও রাতের বেশিভাগ সময়ই ভারত মহাসাগরের বিশাল ডেউ এখানে আছড়ে পরে। গল ফেস সৈকতের স্নিগ্ধ বাতাস মুগ্ধ করে স্থানীয় এবং পর্যটকদের। ফলে দিনে এবং রাতে এখানে থাকে প্রচুর দর্শনার্থী সমাগম।

কলম্বো শহরের গল ফেস সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, ভোর ৫টা থেকেই এখানে ব্যাম করে স্থানীয় এবং বিদেশি পর্যটকরা। সমুদ্র কিছুটা শান্ত থাকলে পানিতে নেমেও অনেকইে খেলা করেন। কেউ বা আবার পরিবার নিয়ে এখানে আসেন ঘুরতে। কেউ কেউ দীর্ঘসময় ধরে এখান সিঁড়ি কিংবা বেঞ্চে বসে অবকাশ যাপন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিন এবং রাতের বেশির ভাগ সময়ই দর্শনার্থী মুখর থাকে গল ফেস সমুদ্র সৈকত। কিন্তু ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা এবং বিকেল ৫টা থেকে প্রায় মধ্য রাত পর্যন্ত এখানে সব থেকে বেশি দর্শনার্থী সমাগম হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম বলেন, এখানে সব সময়ই জাগজমক থাকে। বিশেষ করে বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত এখানে সব থেকে বেশি মানুষের সমাগম হয়। স্থানীয়রা প্রতিদিন এখানে এসে বিকেলে বাচ্চাদের নিয়ে খেলা করেন। সন্ধ্যায় অনেকেই এখানে এসে ডিনার পার্টি করেন। এভাবেই এখানে এক পরিবারের সাথে আরেক পরিবারের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। এক প্রশ্নের জবাবে আকরাম বলেন, এখানে প্রতিটি মানুষ দায়িত্বশীল। সকলেই সকলের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসে। এখানে এসে কারো সাথে মিশতে কেউ ভেদাভেদ করে না।

গল ফেস সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেরই কাছে প্রিয় এটি। এখানকার পর্যটনকে কেন্দ্র করে সৈকতের সড়কে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি দোকান। এর অধিকাংশই বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় খাবার বিক্রি করে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পানীয়, চিপস, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার জিনিস পাওয়া যায়। সাপদ নামের এক দোকানি বলেন, এখানে দোকান করা অনেক কঠিন। আপিন ব্যবসা করতে পারবেন কিন্তু নোংরা করতে পারবেন না। নোংরা করলেই জরিমানা। এমন কি দোকানের মালিকানাও চলে যেতে পারে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন!

বিকেলের পরপরই এখানে ঘুরতে আসনে সবিতা। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিনিয়তই এখানে আসা হয়। যারা কলম্বো শহরে থাকেন বিশেষ করে মেরিনড্রাইভ, কিংবা মাউন্ট লাভিনিয়া অথবা গল ফেসের দিকে সন্ধার পরপরই তারা এখানে চলে আসেন। সকলেই চান সমুদ্রের স্নিগ্ধ বাতাস শরীরে লাগাতে। তার সাথে আসা আরেক গৃহীনি বলেন, প্রতিদিন আমি এখানে বাচ্চাকে নিয়ে খেলাধুলা করাতে আসি। সৈকতের ঘাসের ওপর বাচ্চারা খেলাধুলা করতে অনেক স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।

কলম্বোর গল ফেস সমুদ্র সৈকত জনপ্রিয় সারা বিশ্বব্যাপী। কলম্বোতে এসেছে কিন্তু গল ফেস সমুদ্র সৈকতে আসেনি এমন পর্যটক হয় তো পাওয়াই যাবে না। গল ফেস সমুদ্র সৈকতের তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত পাঁচ তারকা হোটেল গলফেস। এর দক্ষিণ দিকে তৈরি হচ্ছে সুবিশাল চায়না পোর্ট। আর বাঁ দিকের সমুদ্র সৈকত চলে গেছে, মেরিনড্রাইভ, মাউন্ট লাভিনিয়াসহ আরো বেশ খানিকটা দূরে। যা এই শহরকে দিয়েছে এক নতুন রূপ। 

আন্তর্জাতিকমানের সেলুন এখন ঢাকায়
বিশ্বজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে ওয়ালটন: প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল

আপনার মতামত লিখুন