মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২ | ২১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ইভেন্ট

পর্যটন শিল্প রক্ষায় সেন্টমার্টিন বাঁচানোর আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুন ২০২২

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক আগমন সীমিত ও নিবন্ধন কার্যক্রমের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন গমনের একটি হটকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে দাবি করে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য আকুতি জানিয়েছেন স্কোয়াব নামের একটি সংগঠন।

বুধবার (২২ জুন) দুপুরে কক্সবাজার শহরের হোটেল মিশুকে সংবাদ সম্মেলন করেন সি-ক্রুজ অপারেটরস অনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব)।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপটি দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ও সমুদ্র ভ্রমণের একমাত্র মাধ্যম। এমতাবস্থায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ সীমিত না করে বরং জীব-বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ নিশ্চিতে নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবি জানাচ্ছে তারা।

লিখিত বক্তব্যে স্কোয়াব সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, স্বপ্নের প্রবালদ্বীপে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক সেন্টমার্টিনে অবস্থান করে এর জীব-বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে। এতে বিভিন্ন খাত হতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায়। তাছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় ১০ হাজার বাসিন্দাসহ জীবিকার তাগিদে আসা

দেশের বিভিন্ন এলাকার আরও ৪ হাজার মানুষ দ্বীপটিতে বসবাস করছেন। এ দ্বীপের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস হলো পর্যটন খাত। দ্বীপের মানুষজন পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে আয় রোজগারের মাধ্যমে সংসার চালান।

সম্প্রতি দ্বীপটিতে অতিরিক্ত পর্যটক গমণ পরিবেশের জন্য হুমকি বিবেচনা করে সেখানে পর্যটন সীমিত করণের সরকারি উদ্যোগে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একধরনের আতংক বিরাজ করছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই স্থানে যাতায়াত সীমিতকরণের উদ্যোগটি অন্তত এই করোনা মহামারির পর আরেক বড় বিপর্যয়কর ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছি । এই মুহূর্তে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ আশাতীত সীমিত করা দেশের পর্যটনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং দ্বীপে বসবাসরত মানুষরা মানবেতর জীবনযাপন করবে।

দেশের প্রায় ৫ লাখ লোকের জীবিকার নির্ভরশীল হয়ে আছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘিরে। এছাড়া এ দ্বীপের পর্যটনকে ঘিরে টেকনাফ, কক্সবাজারসহ সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ট্যুর প্ল্যানে অন্যতম আকর্ষণ সেন্টমার্টিন। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের একমাত্র উপার্জনের উৎস এই পর্যটন খাত। একে ঘিরে তৈরি হয়েছে পর্যটকবাহী নৌযান, হোটেল-মোটেল সেবা এবং সেই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক তরুণদের কর্মসংস্থান হয়েছে ট্যুর গাইড সেবায়। তাছাড়া কক্সবাজারের স্থানীয় তরুণরা বেকারত্বের গ্লানি মুছে নিজ উদ্যোগে পর্যটন সংশ্লিষ্ট নানা রকম সেবামূলক কাজের সাথে যুক্ত আছে। এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প বিকাশে স্থানীয় তরুণরা কক্সবাজার থেকে টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরিবহন ও লঞ্চ সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। পর্যটকরা কক্সবাজার এসে সবসময় উৎফুল্লতার সঙ্গে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে ফিরে। আমরা মনে করছি সেন্টমার্টিনে পর্যটন সীমিত করার অপচেষ্টার বিষয়টি একটি দেশী- বিদেশী ষড়যন্ত্রের অংশ। দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষেরা স্বল্প খরচে কক্সবাজার হয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপটি ভ্রমণ করে যেতে পারে। কিন্তু পর্যটক সীমিত ও নিবন্ধন করার বিষয়টি যদি কোন ভাবে বাস্তবায়িত হয় তা হলে দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষেরা বিদেশে গিয়ে দেশের অর্জিত অর্থ অপচয় করবে।

পর্যটকবাহী জাহাজ মালিক সংগঠন সী-ক্রুজ অপারেটরস অনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব), বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ সীমিত না করে জীব- বৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমন নিশ্চিতে নীতিমালা প্রণয়ন করার জোর দাবী জানায়। পর্যটক আগমন সীমিত করণ কোন প্রতিকার নয় বরং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে স্টেমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য চালু রেখে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করতে হবে। অধিকন্তু সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। তাই সেন্টমার্টিন তথা দেশের পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের উক্ত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জোর দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি অধিক তদন্ত সাপেক্ষে কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের স্টক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টোয়াক সভাপতি আনোয়ার কামাল, কেয়ারী ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন- এর প্রতিনিধি নুর মোহাম্মদ ছিদ্দিকী, মুকিম খান, সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ রহিম জিহাদী, সেন্টমার্টিন যাত্রী পরিবহন বোট মালিক সমিতির সভাপতি রশিদ আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন স্কোয়াব সভাপতি তোফাইল আহমদ।

বরগুনায় ওয়ালটন কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট উদ্বোধন
পর্যটক শূন্য ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’ টেংরাগিরি ইকো-পার্ক

আপনার মতামত লিখুন