বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
মতামত

করোনায় প্রাণ পেয়েছে প্রকৃতি

মাজহার মুনতাসসির
২২ জুন ২০২০

করোনা। বতর্মানে সময়ে একটি আলোচিত নাম। যেটি সার্স গ্রুপের নতুন একটি ভাইরাস। চীনের উহান থেকে এর সংক্রমণ শুরু হয়ে এখন বিশ্বের ২১৩ দেশে এর দাপট চলছে। এই ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে মানুষ, যাচ্ছে প্রাণও। তাই সংক্রমণরোধে সকল দেশই তাদের জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরুতে নিষেধ করছে। বলা হচ্ছে, ঘরে থাকুন। মানুষ যখন বাইরে না বেরিয়ে ঘরে থাকতে শুরু করল তখন এক নতুন সজিব-সতেজ প্রকৃতির দেখা পেল পৃথিবী। 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির পর থেকে জনজীবনের বিলাসিতার জন্য ভারসাম্য হারাতে শুরু করে প্রকৃতি। মানুষের অত্যাচারে দিনদিন বাড়তে থাকে পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, বনাঞ্চল উজাড়। তবে করোনার কারণে মানুষের সমাগম না থাকায় নতুন রূপে সাজতে থাকে প্রকৃতি। মনে হল নববধূর মত দেখা দিল সে। এতদিন প্রকৃতির মাঝে যে বিমর্ষতা ছোঁয়া ছিল সেখান বিরাজ করতে লাগল সজিবতা। করোনার কল্যাণেই সেটা সম্ভব হয়েছে। অনেক দেশেই দেখা গেছে মানুষের সমাগম না থাকায় রাস্তার মাঝে নিশ্চিন্ত-নির্বিঘ্ন  মনে বিচরণ করছে বন-জঙ্গলের গহীনে থাকা প্রাণীগুলো। এসময় অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণী দেখা মিলেছে, যা যুগ যুগ ধরে সম্ভব হয়নি।

প্রকৃতির মাঝে সজিবতার অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, করোনার সময়ে বায়ু দূষণ অনেকটাই কমে গেছে। করোনার কারণে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকার কারণে বায়ু দূষণ কমে গেছে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদদরা। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে পৃথিবীর মধ্যে বায়ু দূষণের শীর্ষে ছিল ঢাকা। করোনাকালীন সেই ঢাকার বায়ুর উন্নতি হয়েছে। শুধু তাই নয় ঢাকার প্রাণ যে বুড়িগঙ্গার পানি এতদিন কল-কারখানার দূষিত বর্জের কারণে কুচকুচে কালো ছিল সেই পানিও এই সময়টায় স্বচ্ছ রূপ ধারণ করে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশের পর্যটনস্থানগুলোতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এই সময়টাকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে পর্যটক কিংবা স্থানীয়দের পদচারণা না থাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরে এসেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে গিয়ে বিরল ডলফিন দলের খেলা দেখা গেছে। ডলফিনের এই দলটি সাগরের নীল জলে লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করছিল। কলাতলী সমুদ্র সৈকতের একদম কাছেই ডলফিনগুলো খেলা করতে দেখা গেছে। সমুদ্র পাড় থেকে ডলফিনের খেলা করার দৃশ্য পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। শুধু তাই নয় সাগর সৈকতের বালিয়াড়িতে এতদিন শুধু বালি দেখা যেত সেখান সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়েছে সাগরলতা। যা স্থানীয়ভাবে ডাউঙ্গালতা, গঙ্গালতা বা পেঁয়াজ লতা নামে পরিচিত।

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর একটি হচ্ছে চিড়িয়াখানা। নগরের নাগরিক ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে একটু বিনোদনের জন্য অনেকেই পরিবার নিয়ে ছুটে যান চিড়িয়াখানায়। বেশিরভাগ সময় দেখা গেছে, সিংহরাজ, বাঘ মামা, হরিণ, গণ্ডার, কুমিরসহ সকল প্রাণীর মধ্যে এক ধরণের বিমর্ষতা কাজ করছে। তবে এই করোনাকালীন সময়ে মানুষের আনোগোনা না থাকায় খাঁচায় থাকা এই প্রাণীগুলোর মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। যান্ত্রিক নগরে পাখির কিচির মিচির শুনতে পাওয়াটা অনেক দুর্লভ ব্যাপার। কিন্তু করোনা আমাদের এই সময়টাকে সেই পাখির কিচির মিচির শোনার সুযোগ করে দিয়েছে। 

করোনা আমাদের এটাই বুঝিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারাটাই মানুষের জন্য, পৃথিবীর জন্য কল্যাণ। প্রকৃতির বিরোধীতা করেই আজ বিপন্ন মানুষের জীবন, পরিবেশ, জলবায়ু। তাই প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে নয়, প্রকৃতির অনুকূলে থেকে, প্রকৃতিকে সমীহ করে চলতে পারলেই আর কোনো দুর্যোগ-দুর্ভোগ পোহাতে হবে না পৃথিবীকে, পৃথিবীর মানুষগুলোকে।

লেখক : সাংবাদিক

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে সাংসদ বাবেলের আবেগঘন স্ট্যাটাস
চট্টগ্রাম থেকে কলকাতায় বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইট

আপনার মতামত লিখুন