বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
গাঁও গেরাম

সিলেটে ঝুঁকির মুখে পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীরা

মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে
১৩ জুন ২০২১

সিলেটের জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুলো, সাদা পাথরসহ সবক’টি পর্যটন স্পটের চিরচেনা দৃশ্য পাল্টে গেছে। সরকারি নির্দেশনায় প্রশাসনিকভাবে বন্ধ হয়ে পড়া এসব পর্যটন স্পটে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো ভ্রমণপিয়াসী মানুষের ঢল নামতো। পর্যটন স্পটসমূহের হোটেল রেস্তরাঁ, আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট কটেজ, ফটোগ্রাফার, ক্যামেরাম্যান, নৌকার মাঝি, নদীর বুকে চলমান নানা ইভেন্টের বিনিয়িোগকারীরা থাকতেন কর্মমুখর ও ব্যস্ততায়। কিন্তু সরকারি নির্দেশে সবকিছুতে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। তাদের বিনিয়োগকৃত পর্যটন রিলেটেড ব্যবসায়িক কর্মস্থল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অমানবিকভাবে কাটছে তাদের সময়। নিযুক্ত কর্মচারীর বেতন, দোকান, হোটেল ভাড়াসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 সরজমিন পর্যটন স্পট জাফলং জিরো পয়েন্ট পরিদর্শনকালে করোনাকালের পর্যটন খাতের এসব চিত্র ফুটে ওঠে। কথা হয় জাফলং ভিউ পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সানি আহমদ জানান, আমাদের জাফলং ভিউ হোটেলসহ আশপাশের হোটেল রেস্তরাঁর ব্যবসা বাণিজ্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

স্টাফ বেতনসহ মারাত্মক লোকসানের মুখোমুখি আছি। জাফলং গ্রিন রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী বাবলু বখত জানান, পর্যটনকেন্দ্র করোনার জন্য বন্ধ থাকাতে ভ্রমণকারীদের আনাগোনা বন্ধ রয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন আমার প্রতিষ্ঠানে দেনা আর লোকসানের খাত ভারি হচ্ছে। 

জাফলং বল্লাঘাট পিকনিক সেন্টারে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন কর্মরত ক্যামেরাম্যান আর টুরিস্ট গাইডরা। তাদের সভাপতি নিলয় পারভেজ সোহেল জানান, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে বন্ধ পর্যটন এলাকায় আমাদের সংগঠনের ৪ শতাধিক ফটোগ্রাফার ও টুরিস্ট গাইডরা চরম অমানবিকভাবে বেঁচে আছি, প্রতি পরিবারে অর্থকষ্টে দিন কাটছে। মানবিক বিচেনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দিতে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জাফলং বল্লাঘাট পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন। তারা জানান, প্রথমে লকডাউন ও পরে পর্যটন স্পটসমূহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও টুরিস্ট পুলিশের কড়াকড়ির আরোপের কারণে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে পর্যটন স্পটসমূহের পর্যটক উপস্থিতি। তাছাড়া জৈন্তাপুর-তামাবিল-গুচ্ছগ্রামসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটন পুলিশের অস্থায়ী টহল পয়েন্ট বসিয়ে আগত পর্যটকবাহী যানবাহনসমূহ ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সবকিছু বন্ধ থাকায় এ খাতে বিনিয়োগকারী ও আমরা যারা জড়িত তাদের পরিবার-পরিজনদের নিয়ে চরম অমানবিকভাবে বসবাস করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন খাত খুলে দিতে আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। 

পর্যটন কেন্দ্র রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট এলাকার সোহেল স্কয়ার রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সোহেল আহমদ জানান, করোনার দ্বিতীয় ধাপের শুরু থেকেই রাতারগুলে পর্যটক আনাগোনা বন্ধ রাখা হয়েছে, পর্যটকদের বন্ধ থাকার কারণে আমাদের কাস্টমাররা আসতে পারছে না ফলে আমরা লোকসানের মুখোমুখি রয়েছি। এদিকে গোয়াইনঘাটের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরেও একই অবস্থা বিরাজ করছে পর্যটন খাতে। হালের এই সেনসেশন হওয়া পর্যটন কেন্দ্রটিতে নেই পর্যটক আনাগোনা ও সমাগম। কোম্পানীগঞ্জ টুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি আবিদুর রহমান জানান, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর সিলেটের নতুন ও সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটন কেন্দ্র তার রূপ লাবণ্যতায় পর্যটকদের আকৃষ্ট করায় প্রতিদিনই এখানে ঢল নামতো কয়েক হাজার পর্যটকদের। কিন্তু এলাকাটি এখন প্রায় পর্যটকশূন্য।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান জানান, সরকারের অন্যতম লাভজনক খাত পর্যটন। করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণরোধ এ থেকে বিদ্যমান ক্ষতির সম্ভাবনায় সরকারের জরুরি সিদ্ধান্তে দেশের সবক’টি পর্যটন স্পট সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এ খাতের বিনিয়োগকারী ও জড়িতদের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবক’টি পর্যটন স্পট খুলে দেয়া হবে।

পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার দাবি
সংকটে পর্যটন সেক্টর, বন্ধ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান

আপনার মতামত লিখুন