মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২ | ২১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
গাঁও গেরাম

সুবর্ণচরে অসচ্ছল পরিবারকে ঘর দিল চরজব্বার থানা পুলিশ

আরিফুর রহমান, সুবর্ণচর(নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
০৭ এপ্রিল ২০২২

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুলিশের ঘর পেলেন অসহায় সখিনা । প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে নোয়াখালী জেলা পুলিশের উদ্যোগে বসতঘর পাচ্ছে জেলার নয়টি হতদরিদ্র পরিবার। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম।

চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক তরিক খন্দকার জানান, ৯ টি থানায় ৯টি হতদরিদ্র পরিবারকে  গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের সহয়াক হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ সারাদেশে প্রতিটি থানায় একটি করে হতদরিদ্র পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দেয়ার প্রকল্প গ্রহণ করে।

এ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক থানায় একটি হতদরিদ্র পরিবারকে নূন্যতম এক কাঠা জমি ক্রয় করে আনুমানিক ৪১৫ বর্গফুট আয়তনের দুই কক্ষ, রান্নাঘর ও টয়লেট বিশিষ্ট একটি গৃহ নির্মাণ করে দেয়ার কাজ শুরু করে তারই ধারাবাহিকতায় সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামের অসহায় গৃহহীন সখিনা খাতুনকে একটি ঘর নির্মান করে দেয়া হয়। সখিনা খাতুনের স্বামী নিখোঁজ, এক মেয়ে কলেজে অধ্যায়নরত ও ছেলে অসুস্থ্য। হতদরিদ্র সহায়সম্পত্তিহহীন সখিনা মেয়ের লেখা পড়ার খরচ ছেলের চিকিৎসা খরচ চালাতে পারেনা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকম জিবিকা নির্বাহ করে। সবদিক বিবেচনা করে তাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়।

নতুন ঘর পেয়ে সখিনা খাতুন বলেন, স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছি। তবে পেটে কষ্টের চেয়ে ঘরের কষ্ট ছিল অনেক বড়। কারণ ঝড় বৃষ্টিতে দুই-সন্তান নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছিল। পুলিশ আমাদের জন্য যা করল সেটা কোনোদিন ভুলার নয়। একসময় এলাকায় পুলিশ এলে খুব ভয় লাগত। ভয়ে ঘর থেকে বের হতাম না। আজ সেই পুলিশই আমাদের ঘর করে দিল। আমার পরিবারকে চির ঋণী করে দিল পুলিশ সদস্যরা।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম পিপিএম বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের ঘরগুলি হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে। আগামী ১০ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর উপকারভোগীদের নিকট ঘরগুলি জমিসহ হস্তান্তর করা হবে। হতদরিদ্র ওই পরিবারটি খুব খুশি হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।


রমজানে পর্যটক শূন্য কক্সবাজার
ক্ষেতভরা তরমুজের গাছ ফলনে সর্বনাশ

আপনার মতামত লিখুন