বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

ধূমপানের বিকল্প হতে পারে ভেপিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মে ২০২০

যারা ধূমপান ছাড়তে চান তাদের অনেকেই ভেপিং করেন। ভেপিং যেহেতু শুধু নিকোটিনের চাহিদা পূরণ করে থাকে, এতে সারা বিশ্বে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের নিরাপদ বিকল্প পণ্য হিসেবে তা ব্যবহার করা হয়। যেহেতু ভেপিং ধূমপান ছাড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তাই ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ধূমপানমুক্ত দেশ গড়তে এটি সহায়ক হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে ভেপিং সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণেই অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে  ভেপিং। ভেপিং এর মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সফলভাবে ধূমপান ছেড়ে দিচ্ছে। গেল বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে এখন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ভেপিং করছে। এরমধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ তামাকের সিগারেট বা ধূমপান ছেড়ে দেয়ার জন্য ভেপিং করছে। 

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে ভেপিংয়ের প্রভাব, ব্যবহারের ধরনের জন্য পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের অনুমোদনে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। এর ওপর ভিত্তি করে দেশটির পার্লামেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটি ভেপিং নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে তারা এর ক্ষতি হ্রাস, ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার ব্যাপারে সুপারিশও করেছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা বিভাগের সাড়া জাগানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় ভেপিং ৯৫ শতাংশ কম ক্ষতিকর।

মেলবোর্ন-ভিত্তিক রয়েল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্সের (আরএসিজিপি) প্রেসিডেন্ট হ্যারি নেসপোলন বলেন, ‘ধূমপান ছাড়ার বিভিন্ন উপায়ের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট চিকিৎসা। যারা ধূমপান ছাড়তে চান তারা প্রাথমিকভাবে নিকোটিনযুক্ত লজেন্স ও চুইংগাম ব্যবহার করতে পারেন। এতেও কাজ না হলে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট চিকিৎসার অংশ হিসেবে ভেপিং করতে পারেন।’

প্রচলিত তামাক ছাড়ার পরামর্শ দিতে গিয়ে বার্লিনের ফুসফুস রোগের বিশেষজ্ঞ ডা. টোমাস হেয়ারিং জানান, ভেপিংয়ের মাধ্যমে ইউরোপের শতকরা ৬৭ ভাগ মানুষের ধূমপান ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিকোটিনের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো যায়। আর এতে সিগারেটের ওপর শরীরের নির্ভরতাও আন্তে আস্তে কমতে থাকে। ধূমপান পুরোপুরি ছাড়ার জন্য এটাকে অন্তত প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে।

ভেপিংয়ে ক্ষতি কম হওয়ার আরেকটি কারণ এতে যেহেতু তামাক দেওয়া হয় না, কাজেই তা থেকে কম টক্সিন তৈরি হয়ে থাকে। যদি সকল ধূমপায়ী সিগারেটের পরিবর্তে ভেপিং করতেন তাহলে হয়তো প্রতিবছর মৃত্যুহার অনেক কমে যেতো বলেও জানান ডা. টোমাস হেয়ারিং।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেপিং নিয়ে স্পষ্ট ধারণা ও সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে ২০৪০ সাল নাগাদ দেশ ধূমপানমুক্ত করার ভিশন অধরাই থেকে যাবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাজীব হোসেন জোয়ারদার বলেন, ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করেও যারা পারছেন না, তাদের জন্য ধূমপান ছেড়ে দেয়ার নিরাপদ সহায়ক হবে ভেপিং। ভেপিং যেহেতু শুধু নিকোটিনের চাহিদা পূরণ করে থাকে, এবং এটি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা সম্ভব— তাই সারা বিশ্বে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের নিরাপদ বিকল্প পণ্য হিসেবে তা ব্যবহার করা হয়। ভেপিং নিয়ে স্পষ্ট ধারণা ও সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে  ধূমপানমুক্ত দেশ হিসাবে আমাদের যে ভিশন প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন সেটি অধরাই থেকে যাবে।

করোনাযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে অনুদান দিলো ওয়ালটন
এবার ভাড়াটিয়াদের বাসায় বাড়িওয়ালার ঈদ উপহার

আপনার মতামত লিখুন