রোববার, ২৩ জুন ২০২৪ | ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিশেষ প্রতিবেদন

রাঙামাটিতে পর্যটন শিল্পের বিকাশে চার দশকেও নেই কোনও উদ্যোগ

জিয়াউল হক, রাঙামাটি
১০ মার্চ ২০২৩

দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতুটিকে বলা হয় সিম্বল অব রাঙামাটি। ১৯৮৩ সালে এটি  তৈরি করা হয়। প্রতিদিন সেতুর সৌন্দর্য দেখতে আসেন হাজার হাজার পর্যটক। ছুটি ও বিশেষ দিনে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি রয়েছে পর্যটন পার্ক। মূলত জেলার এই দুটি পর্যটন স্পট ঘিরেই টিকে আছে পর্যটন শিল্প। অথচ এই দুটি পর্যটন স্পটের বেহাল দশা।

এরই মধ্যে ঝুলন্ত সেতুর কাঠগুলো ভেঙে গেছে, নাজুক অবস্থা পাটাতনের। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে পর্যটন পার্ক। দেখে মনে হয় না পর্যটন স্পট। চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পর্যটন শিল্পের বিকাশে চোখে পড়ার মতো কোনও উন্নয়ন হয়নি। ফলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা। 

পর্যটক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ সৃষ্টির পর হ্রদকে পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালে ঝুলন্ত সেতু তৈরি করে যাত্রা শুরু হয় পর্যটন করপোরেশনের। এরপর আর কোনও উদ্যোগ কিংবা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। একটি সেতু ও পার্ক দিয়ে চলছে এখানকার পর্যটন ব্যবসা।

পর্যটকরা বলছেন, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পছন্দের স্থান ঝুলন্ত সেতু ও পর্যটন পার্ক এলাকা। পাশাপাশি রয়েছে দুটি মোটেল। টিকিট কেটে সরু সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে গেলেই দেখা মেলে সেতুর। সেতুর পাটাতনের এখন বেহাল দশা। ভেঙে গেছে কাঠ। জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে চলছে।

সেতু পার হয়ে একটু ওপরে উঠলে দেখা যায় তিন ফুটের কম প্রশস্ত ইটের সলিং সড়ক। যা দিয়ে দুজন মানুষের হাঁটা অসম্ভব। সড়কের মাঝ থেকে সরে গেছে ইট, ধসে গেছে মাটি। কোথাও খাড়া পাহাড়ের ঢাল, কোথাও গর্ত। এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাফেরা করছেন শত শত পর্যটক। একটু অসচেতন মনে হাঁটলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

অথচ পর্যটন করপোরেশনের প্রচুর জায়গা এখনও পড়ে আছে অব্যবহৃত। যেখানে স্থাপন করা যায় দৃষ্টিনন্দন বহু স্থাপনা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশায় হতাশ পর্যটক ও স্থানীয়রা।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মো. নাঈম হোসেন বলেন, ‘আট বছর আগে যে অবস্থা দেখে গেছি, তার চেয়ে এখন আরও খারাপ অবস্থা। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে হতাশ হলাম। এখানকার প্রকৃতি সবকিছু দেওয়ার পরও শুধু পরিকল্পনার অভাবে পর্যটকদের জন্য কিছুই করা হয়নি। একমাত্র সেতুর অবস্থা বেহাল। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে পার্কটি।’

একই কথা বললেন পর্যটক ইসরাত আরা ও ফয়সাল উদ্দিন। তারা বলেন, ‘ছবিতে যেভাবে দেখে এসেছি, তার উল্টো অবস্থা এখানকার। সেতুর পাটাতনের কাঠ ভাঙা, সিঁড়িগুলো ছোট। পার্কের পরিবেশ নাজুক। দেখার মতো কিছুই নেই।’ 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন রাঙামাটির ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, ‘পর্যটন এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময় প্রস্তাবনা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। সেগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে। আশা করছি, উন্নয়নকাজ শুরু হলে নতুনমাত্রা যুক্ত হবে। পর্যটকরাও আরও বিনোদিত হবেন।’

পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে কী কী করণীয়, সে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য পর্যটন করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‌‘জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী ও পর্যটন করপোরেশনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য কী কী করণীয়, সে পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। প্রকল্পগুলো আমার কাছে এলে গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো করে দেবো। পর্যটকরা যাতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, সেভাবে কাজগুলো করবো আমরা।’

গাইবান্ধায় কিস্তি ক্রেতার মৃত্যুতে তার পরিবারকে ওয়ালটন প্লাজার সহায়তা
বাংলাদেশে প্রথম স্মার্ট প্রিহিটেড ব্যাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করল গো ফুড

আপনার মতামত লিখুন