শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ইভেন্ট

আশুরার বিল ছেয়ে গেছে শাপলা ও পদ্ম ফুলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর ২০২২

দুই পাশে সবুজঘেরা বন। মাঝে বিশাল বিল ছেয়ে গেছে শাপলা ও পদ্ম ফুলে। দূর থেকে দেখে মনে হবে লাল ও সাদা চাদরে ঢাকা একটি জলাশয়। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান ও আশুরার বিলে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। এটিকে পরিপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রশাসন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে উদ্যানটি অবস্থিত। উদ্যানটিকে ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর আয়তন  ১২৭৮ দশমিক ৪৯ একর। এর মধ্যে ৫৮৮ দশমিক ২২ একর এলাকাজুড়ে রয়েছে আশুরার বিল। বিলের একাংশে শাপলা বিল অপর অংশে রয়েছে পদ্মবিল, যেখানে বছরের বেশির ভাগ সময় লাল-সাদা শাপলা ও পদ্ম ফুলের সমাহার থাকে। বিলের মাঝখানে রয়েছে জেড আকৃতির শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব সেতু, যা কাঠ দিয়ে তৈরি। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের দোকান ও খাবার হোটেল। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন এবং আশুরার বিল ও বন সংরক্ষণ কমিটি।

আশুরার বিল ও বনে ঘুরতে আসা আশরাফুল ইসলাম নামে একজন  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানকার সৌন্দর্যের কথা শুনে এখানে এসে আমি মুগ্ধ।’

ঘুরতে আসা ইয়াসমিন আকতার বলেন, ‘এখানে দুই পাশে বন, মাঝখানে বিল। সেই বিলে শাপলা ও পদ্ম ফুল ফুটেছে। অনেক ভালো লেগেছে।’

নাজমা খাতুন নামে অপর দর্শনার্থী বলেন, ‘নবাবগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব কাঠের সেতুর কথা অনেকের মুখে শুনেছি। দুই পাশে বন, মাঝে বিশাল বিলের ওপর কাঠের আঁকাবাঁকা সেতুটি দৃষ্টিনন্দন।’

বিল ও বন রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রহমান বলেন, ‘আশুরার বিলে লাল-সাদা শাপলা ও পদ্মফুল ফুটেছে। ফুল ফোটায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলে আসতে শুরু করেছে। সকালের দিকে এটি বেশি লক্ষ করা যায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে দর্শনার্থী আসছেন। আমরা তাদের আগমনকে স্বাগত জানাই। শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান ও আশুরার বিলে মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন এবং সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন সে জন্য ১৭শ’ স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। তারা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ সোম বলেন, ‘আশুরার বিলকে একটি পরিপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করা দরকার সে বিষয়ে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।’

সাইবেরিয়ার পাখি বারবার আসে, পর্যটক আসেন না
সমুদ্রসৈকত বিশ্বের মানুষ চেনে, সুন্দর ব্যবস্থাপনা করুন: ডিসিকে হাইকোর্ট

আপনার মতামত লিখুন