মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪ | ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

কর্মকর্তাদের মাঝে উৎকণ্ঠ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিতর্কিত কর্মকর্তা জসিম মহাপরিচালক পদে বসতে মরিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালে সেখানে দুর্নীতির জাল বসিয়েছিলেন। দরপত্র ও নিয়োগে অনিয়মের খবর তখন বেশ আলোচিত ছিল। তার হাত ধরে বাংলাদেশে অবৈধভাবে মাংস আমদানি শুরু হয়। ভুয়া সনদ দিয়ে মাংস আমদানিকারকদের সবসময় তিনি সহায়তা করেছেন, আর এজন্য লেনদেন হয়েছে মোটা অংকের টাকা। এসব অনিয়ম নিয়ে ২০২১ সালে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, "অনিয়ম-দুর্নীতি হবে। এটা আমি চাইলে বন্ধ হবে না। দুর্নীতি করতে সাহস দরকার, অনেকের সাহস নেই তাই দুর্নীতি করতে পারে না। অফিসে দুর্নীতি করতে গিয়ে কারো না কারো তো উপকার হচ্ছে। দেশের নাগরিকরা দুর্নীতি করলে আমি দুর্নীতি বলব না, বার্মার লোকেরা তো আর দুর্নীতি করছে না। আমি উপরের সবাইকে ঠিক রাখতে পেরেছি বলে‍ই তো চেয়ারে এতদিন থাকতে পারছি।" 

অনিয়ম দুর্নীতি, নানা অভিযোগের প্রমাণ, তদন্ত কমিটি গঠন ও শাস্তিও তাকে পরাস্ত করতে পারেনি। উপর মহলকে খুশি করেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ নানা পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। হয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন)। এরপর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)। এখন তিনি মরিয়া উঠেছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক হওয়ার জন্য।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা সরকার উৎখাতে নানামুখি অপতৎপরতা চালাচ্ছে। আর এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনতার বিপক্ষের পেশাজীবি (বিএনপি ও জামায়াতের ) সংগঠন এ্যাব (এগ্রিক্যালচারিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এর প্রথম শ্রেণীর নেতা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম। তিনি বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকর্তা কর্মচারীদের একত্রিত করে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নিয়মিত ভাবে ঢাকাস্থ প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-–কর্মচারীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক , সরকার বিরোধী জামাত -বিএনপি বিভিন্ন মিটিং এ যোগদান ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।  তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা কালিন শহীদ সামছুল হক হলের ১৯৮৫-৯১ সাল পর্যন্ত আবাসিক ছাত্র ছিলেন। বিশ^বিদ্যালয়ে পড়া কালিন ছাত্রদলের অতি বিধ্বংসী আর্মস ক্যাডার ছিলেন। বর্তমানে প্রশাসন ও বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে চাকুরী করেন এমন অনেকে ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম এর দ্বারা শাররীক ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন । অনেকের হাত পা ভেঙে ফেলেছেন তিনি।

খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে,ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম নন ক্যাডার একজন কর্মকর্তা হিসাবে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রথম চাকুরতে প্রবেশ করেন। কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালে চাকুরীকালিন সময়ে স্বাধীনতার বিপক্ষের পেশাজীবি (বিএনপি ও জামায়াতের ) সংগঠন এ্যাব (এগ্রিক্যালচারিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কে সংগঠিত করার কাজে দায়িত্ব পালন করেন। ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম এর এহেন কার্যকলাপের পুরষ্কার হিসাবে কোন বিসিএস ছাড়াই কোন তম বিসিএস বাদে বিশেষ বিসিএস কর্মকর্তা হিসাবে পদায়ন হন। যেটা তদন্ত করলে আসল চিত্র বের হবে। ৯ম থেকে ১৯তম পর্যন্ত প্রাণিসম্পদে (১০ বছর) কোন বিসিএস কর্মকর্তা নিয়োগ হয়নি।

আরো জানা গেছে, ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম,পরিচালক,উৎপাদন,চট্ট্রগ্রামে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসাবে কর্মকালীন সময়ে বিধি বহির্ভুত ভাবে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত মহিষের ও গরুর মাংশ যে সার্টিফিকেট প্রদান করে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ভাবে উপার্জন করেছেন । তার জন্য কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছিলেন। তার এহেন কার্যকলাপে সরকারের ৪/৫ শত কোটি রেভিনিউ আয় বঞ্চিত হয়েছে। তিনি ৭টি ডেইরী ফার্ম,৩টি মহিষ খামার,৭টি ছাগল খামার ও ৪টি ভেড়ার খামারের জন্য ১০০টির উপর টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তার টেন্ডার কার্যক্রম অনিয়মের বিষয়ে কাযক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশনা প্রদান করেছিলে সাবেক ডিজি প্রাণিসম্পদ মহাপরিচালক । কিন্তু সুচতুর ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । প্রাণিসম্পদ অধিদপতরের স্বাধীনতার স্বপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীগন ডা.মো. রেয়াজুল হক জসিম এর মহাপরিচালক নিয়োগের পরিকল্পনা জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

মহাপরিচালক নিয়োগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের স্বাধীনতার স্বপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী নের্তৃবৃন্দ মনে করেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যহত রাখা ,অধিদপ্তরের চাহিদা মোতাবেক ডিপার্টমেন্টের উন্নয়ন ,উৎপাদন প্রবাহ অব্যহত রাখা এবং নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি ,নতুন নুতন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বাধীনতার স্বপক্ষের যোগ্য ব্যক্তিকে মহাপরিচালক নিয়োগ প্রদান করা হবে।

সুবর্ণচরে দাফনের ২ মাস পর গৃহবধূর লাশ উত্তোলন
সুবর্ণচরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ক্রীড়া ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আপনার মতামত লিখুন