মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২ | ২১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
মতামত

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পর্যটনশিল্প

মারুফ হোসেন
০৫ এপ্রিল ২০২২

কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূরীকরণে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব অত্যধিক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি হতে পারে আরও বেশি ফলপ্রসূ। আমাদের দেশে বেকারত্বের হার যেমনি বেশি, তেমনি পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও কম নয়। এ শিল্প শুধু শিক্ষিত ডিগ্রিধারীদের জন্যই কর্মসংস্থান তৈরি করবে না; এ শিল্পে একজন সাধারণ মানুষেরও পান-চায়ের দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমাদের দেশে শহরের তুলনায় গ্রামে কর্মসংস্থান অপ্রতুল, গ্রামে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটলে এ সেক্টরে প্রতিটি মানুষের জন্য কর্মের সুযোগ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

কর্মসংস্থান তৈরি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোয় লাগবে পরিবর্তনের হাওয়া। ফলে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হবে।

পর্যটনশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে এ শিল্প তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি। তাই বিপুল সংখ্যার বেকার, বেকারই রয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে একটি চাকরি জোগাড় করা যখন চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, ঠিক সে সময় এ শিল্প আমাদের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে আশাবাদী করে। এ শিল্প যেহেতু বহুমাত্রিক কর্ম সৃষ্টি করে, সেহেতু একজন নৌকাচালক থেকে শুরু করে একজন চা বিক্রেতা ব্যবসা করে লাভবান হবে। কেননা, পর্যটন এলাকায় সবসময়ই পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। কুটিরশিল্প, হস্তশিল্পের ব্যবসায়ীরা এবং এ সেক্টরের কারিগররা পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় তাদের পণ্য পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে পারে। সেগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নজর কাড়ে এবং পর্যটকরা তাদের পণ্য ভালো দামে কিনতে আগ্রহ দেখায়। ফলে কুটির শিল্প ও হস্তশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো দেশি ঐতিহ্য ধরে রাখতে এগিয়ে আসবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে দেশীয় হারাতে বসা অনেক ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ সম্ভব হবে।

পর্যটকরা চায় তাদের ভ্রমণ অনেক আনন্দদায়ক হোক। আর তাদের ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও সুন্দর করতে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোকে পর্যটকদের ভালো সেবা দেয়ার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হয়। পর্যটকদের যত উন্নত ও ভালো সেবা দেয়া যায়, সেসব পর্যটন স্পটে পর্যটকরা বেশি বেশি আসবেন এটাই স্বাভাবিক। তাই পর্যটন কেন্দ্রে কর্মরত সবাইকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও উত্তম আচরণের অধিকারী হওয়া উচিত।

আমি সম্প্রতি একটি দামি রেস্টুরেন্টে যাই। সেখানে গিয়ে কয়টি মিষ্টির অর্ডার দেই, কিন্তু আমি তাদের একজন কর্মচারী আচরণে কষ্ট পাই। রেস্টুরেন্টের সেবার মান কিন্তু ভালো ছিল। একজন কর্মচারীর কারণে ভালো সার্ভিস দেয়া সত্ত্বেও আমি গোটা রেস্টুরেন্টের ওপরই আমি মনঃক্ষুন্ন হই। দেখা গেল, একজন কর্মচারীর জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানটির বদনাম হলো। তাই এ সেক্টরে সেবাদাতা সবাইকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, মাধুর্যপূর্ণ ভাষা ও ব্যবহারের অধিকারী হওয়া চাই।

গ্রামের অর্থনীতি অনেকটা কৃষিনির্ভর হওয়ায় বছরের একটা সময় কৃষি শ্রমিকরা শহরে গিয়ে গার্মেন্টস কিংবা কারখানায় কাজ নিতে দেখা যায়। কিন্তু গ্রামের মনোমুগ্ধকর আবহে পর্যটনশিল্পের বিকাশে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। তাই গ্রামে পর্যটনশিল্পের প্রসার বাড়ানো গেলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তৈরি হবে তরুণ উদ্যোক্তা। একজন রিকশাওয়ালাও বাদ যাবে না আয়-রোজগারের পথ থেকে। গ্রামের মানুষের জীবনে লাগবে আধুনিকতার ছোঁয়া। সুদিন ফিরবে প্রতিটি ঘরে। ফলে গ্রাম থেকে আসা মানুষের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে হাঁপাতে হবে না ঢাকা শহরসহ অন্যান্য নগরীকে।

দেখা যায়, অনেক নয়নাভিরাম মনলোভা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থান প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। মনপুরা দ্বীপ, চর কুকরি-মুকরিসহ এমন অনেক ভ্রমণ স্পটের কথা আমরা বলতে পারি। এসব স্থানে এ শিল্পের পরিকল্পিত বিকাশ ঘটানো গেলে, সেখানকার খেটে-খাওয়া মানুষগুলো আয়-রোজগারের পথ খুঁজে পাবে। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায়ও আসবে পরিবর্তন। বেকার যুবকদের জন্য তৈরি হবে কর্মসংস্থান। মোদ্দা কথা হলো, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক বেকার যুবককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে এবং দেশে সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত পর্যটন গড়ে ওঠলে দেশ যেমনি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে, তেমনি বেকারত্ব দূরীকরণ সম্ভব হবে। তাই আসুন, পর্যটনশিল্পের বিকাশে এগিয়ে আসি।

-শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

পর্যটনের উন্নয়নে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান
ভ্রমণ ভিসায় ভারত ভ্রমণ, আবারো স্থলপথে যাতায়াত শুরু

আপনার মতামত লিখুন