বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

বিশ্ব প্রোটিন দিবস উদযাপন

শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতে প্রোটিন সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ মার্চ ২০২৬

প্রোটিন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য প্রোটিনের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব প্রোটিন দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এবং ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি) যৌথভাবে গত শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য অপরিহার্য এবং প্রোটিন তার অন্যতম প্রধান উপাদান। বিশেষ করে শিশু, কিশোর–কিশোরী ও মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপসা–বিবি) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. বিপ্লব কুমার প্রামাণিক। বিপিআইসিসির ট্রেজারার সিরাজুল হক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রোটিন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অন্যান্য উৎসের তুলনায় পোল্ট্রি প্রোটিন তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য। শিশুদের পর্যাপ্ত প্রোটিন নিশ্চিত না করলে সুস্থ ও উৎপাদনশীল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

ইউএসএসইসি এর বাংলাদেশ মার্কেট লিড খাবিবুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। পুষ্টি সূচক উন্নত করা গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি জানান, প্রোটিন অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে কাজ করছে।

এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা–এর প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, দেশের পরিবারগুলো এখনো ভাতনির্ভর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি নির্ভরযোগ্য প্রোটিন উৎস থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ডিম ও মুরগি নিয়ে সমাজে প্রচলিত অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, অথচ এসব খাবার পুষ্টির উৎকৃষ্ট উৎস। সামান্য পরিকল্পনার মাধ্যমে বাড়তি খরচ ছাড়াই প্রোটিন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ও কার্ডিওলজিস্ট ডা. এ. জেড. এম. আহসান উল্লাহ বলেন, প্রোটিনের ঘাটতি নীরবে পরবর্তী প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। খর্বাকৃতি, রক্তশূন্যতা ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অপুষ্টির প্রধান লক্ষণ। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

প্রাইমারি টিচার্স ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট ঢাকার সুপারিনটেনডেন্ট মো. ওমর আলী বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষকরা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। স্কুলে প্রোটিনের গুরুত্ব শেখানো গেলে শিশুরা তা পরিবারেও ছড়িয়ে দিতে পারে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও প্রোটিন সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে খুতবার মাধ্যমে পুষ্টি বিষয়ে বার্তা পৌঁছে দিলে তা ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

সোনাইমুড়ীতে ‘নাগরিকতা’ কর্মসূচির নাগরিক দলের সদস্যদের ৩য় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত
পবিত্র রমজান উপলক্ষে কড়াইল বস্তিতে সুবর্ণ ব্লাড ব্যাংক ঢাকা শাখার ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ

আপনার মতামত লিখুন