রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

ক্যামেরায় দেখা না গেলেও প্রধানমন্ত্রী খুঁজে নিলেন ত্যাগী নেতা সেলিমকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ আগস্ট ২০২০
বক্তব্য দিচ্ছেন এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম

বক্তব্য দিচ্ছেন এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও চৌমুহনীতে ১১৩ মেগওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। 

নোয়াখালী জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এ সময় জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খাঁন, নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৩ আসনের সাংসদ মামুনুর রশীদ কিরণ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন, নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা এবং দুজন সুবিধাভোগী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে বসার স্থান হয়নি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের। তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পাশে এক কোনে বসে আছেন। ক্যামেরায়ও তাকে দেখা যাচ্ছিল না। জেলা প্রশাসক যখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন তখন এই প্রবীণ নেতার নামটিও বলেননি। 

হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে উঠলেন, "আমার মনে হয় ওখানে আমাদের আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট আছেন, সেলিম সাহেব। আছেন? সংক্ষেপে কিছু বলুন।"

প্রধানমন্ত্রীর মুখে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে উঠে আসা ত্যাগী এই নেতার নাম শুনে সবাই বিস্মিত হয়ে গেলেন। যে মানুষটিকে পুরো অনুষ্ঠানে কেউ মূল্যায়নই করেনি, বসার আসন রাখা হয়েছে দূরে- সেই নেতাকে ঠিকই খুঁজে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। সত্যি সবাই অবজ্ঞা করলেও আওয়ামী লীগ নেত্রী কখনও প্রকৃত নেতাদের অবজ্ঞা করেন না। প্রধানমন্ত্রী ত্যাগী নেতাদের ঠিকই মনে রাখেন। নোয়াখালীতে এত এত প্রভাবশালী এমপি ও নেতা থাকতে প্রধানমন্ত্রী খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে ক্যামেরায় না দেখেও স্মরণ করেছেন।

বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি সুবর্ণচরে ইকোনমিক জোন স্থাপনে দাবি জানান। এ ছাড়া অনেক বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তিনি তার ব্যক্তব্যে জেলার উন্নয়নে অবদানের জন্য একাধিকবার স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, মামুনুর রশিদ কিরণ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের নাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেন। তিনি তাদের নাম ধরে ধরে প্রসংশা করতে এতটুকু কার্পণ্য করেননি। 

নোয়াখালীতে বৃহস্পতিবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল যোগ্য ও ত্যাগী নেতা খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের নাম। সাধারণ মানুষ বলছেন, প্রবীণ জননেতা সেলিমকে প্রধানমন্ত্রীর স্মরণ করার মধ্য দিয়ে আবারও প্রামাণ হয়েছে যোগ্য লোকরাই শেষ পর্যন্ত সম্মানিত হন, তৃণমূল নেতাদের সব সময় মনে রাখেন আওয়ামী লীগ নেত্রী।

খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সন্তান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. যোবায়ের আনম চৌধুরী অনেকটা আক্ষেপ প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখে আমার বাবার নাম শুনে কেন জানি চোখে পানি চলে এলো। আজকের সভার নোয়াখালী প্রান্তের উপস্থাপক মহোদয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সিরিয়ালে ৭ নম্বরে ফেললেও, সারা বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচারিত এ অনুষ্ঠানে, সময় স্বল্পতার জন্য শুধুমাত্র একজনকে কথা বলার সুযোগ দিতে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে হয় বুঝিয়ে দিলেন, 'হৃদয়ে লিখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে।' জননেত্রীর বিশাল হৃদয়ের ক্যামেরা যাকে খুঁজে পেল, তৈলাক্ত ক্যামেরায় তাঁর ধরা না পড়লেও চলবে।"

উল্লেখ্য, বর্ণাঢ্য কর্মময় রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ও একজন সাদা মনের মানুষ অধ্যক্ষ এ.এইচ.এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম। উপকূলীয় সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের পরপর তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। গণমানুষের নেতা তিনি। ব্যক্তি খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম নিভৃত। তিনি পল্লী গ্রাম নোয়াখালীর সুধারাম থানার (বর্তমান সুবর্ণচর উপজেলা) চরবাটা ইউনিয়নের চরবাটা গ্রামে ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা অলি উল্যাহ চৌধুরী ও মাতা অহিদা খাতুনের ২ ছেলে ও ৩ কণ্যা সন্তানের মধ্যে সেলিম মেজো।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ছিলেন ক্যামেরার বাইরে। প্রধানমন্ত্রী বলার পরই তিনি ক্যামেরায় এলেন

চরবাটা গ্রামের আলো-বাতাস, পানিতে বেড়ে উঠা সেলিম তার মেধা, যোগ্যতা ও সাহসিকতায় হাঁটি হাঁটি পা-পা করে আজ সূবর্ণচর তথা নোয়াখালীর জনতার নেতায় পরিণত হয়েছেন।

তিনি নোয়াখালীর গণমানুষের কথা বলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পথ পেরিয়ে ৬৭ বছর বয়সেও জনগণের কাতারে থেকে জনগণের জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন সেলিম। জেলার সুবর্ণচর থেকে পরপর দুইবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাটি ও মানুষের জননন্দিত নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থেকে দলকে সু-সংগঠিত করতে প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছেন।

সেলিম ছাত্র জীবন থেকেই খুব মেধাবী ও নেতৃত্ব প্রবন ছিলেন। দক্ষিণ চরবাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করার পর ১৯৫৮ সালে ভর্তি হন রাম গোবিন্দ জুনিয়র হাই স্কুলে পরবর্তীতে বামনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে প্রবেশিকা উর্ত্তীণ হন তিনি।

কলেজ জীবনে সেলিম চট্রগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। চট্রগ্রাম সরকারি কলেজে অধ্যায়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। সেখান থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৭২ সালে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় অংশগ্রহনের জন্য নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য হন খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম। পরবর্তীতে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

শিক্ষানুরাগী খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ১৯৯৩ সালে সুবর্ণচরের সৈকত ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ওই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে সৈকত ডিগ্রি কলেজের গর্ভনিং বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি চরবাটা খাসেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, চরবাটা আর জি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, চরবাটা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি, আনছার মিয়ারহাট দাখিল মাদ্রাসা ও আনছার মিয়ারহাট এতিম খানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম স্বৈরাচারী খুনি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৮১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তাঁর নির্দেশে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন। ১৯৯৫ সালে আন্দোলনরত অবস্থায় তৎকালীন বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে নোয়াখালী সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এর আগে ১৯৭২ সাল থেকে র্দীঘ ৩৮ বছর চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেলিম।

রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে এ.এইচ.এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম সাধারণ মানুষের কাছে জনতার নেতা হিসেবে সুখ্যাতী অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর চিন্তা-চেতনায় সব সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আর্দশ বিরাজ করে। তাই তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছেন।

পারিবারিক জীবনে সেলিম এক ছেলে সন্তান ডা. জোবায়ের আনম চৌধুরী, কণ্যা মরিয়ম ছাদিয়া ও সালমা সাদিয়ার জনক। তার স্ত্রী দিলারা সেলিম গৃহিনী। স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভালবাসায় প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম এখনো জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ভিডিওতে দেখুন খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের বক্তব্য

৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি বাজারে ছাড়লো ওয়ালটন
যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা ফাউন্ডেশনের 'ওবামা স্কলার' পেলেন মতলব উত্তরের সজীব

আপনার মতামত লিখুন